ইরানের মাথায় জয়ের মুকুট, কপাল ঠুকছে ইসরায়েল

‘ইরান মরুর ঘোড়া, দম ফুরায় না। ইরানিরা বীরের জাত, মাথা নোয়ায় না। পারসির দুর্জেয়।’
পারস্য উপসাগরের ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে বেড়ানো ইরানের আঞ্চলিক এ বীরগাথার গল্প আবারও লণ্ডভণ্ড করে দিল ইসরায়েলের দম্ভ। একা পারবে না জেনেই সাত সাগর তেরো নদীর ওপার থেকে বিশ্বমোড়লের লেজ ধরেছিল; ফায়দা হলো না। কুলিয়ে উঠল না যুক্তরাষ্ট্রও। ধোপে টিকল না। বাঘের বেশে এসে নিজেই বিড়াল হয়ে গেছে হরমুজে। এখন যুদ্ধবিরতির ‘সাদা পতাকা’ হাতে ঘুরছে। রবিবার ইসরায়েলের এই মুনিবরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। হরমুজ প্রণালিও খুলছে শিগগির। খবর শুনতেই তর্জন-গর্জন ছেড়ে কপাল ঠুকছে ইসরায়েল। পরাজিত লজ্জায় নীরব হয়ে গেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। ‘অস্তিত্ব সংকট’ গ্লানিতে দিশাহারা। এর ঠিক উল্টো ছবিটাই ইরানের মুখে। ইরানের বিজয় মুকুটটাও এলো সেই ইসরায়েল থেকেই। দেশটির সাবেক এক জেনারেল নিজেই বললেন, ‘যুদ্ধে জয়ী হয়েছে ইরান, স্পষ্ট বিজয়।’
২৮ ফেব্রুয়ারি কথা। অপারেশন এপিক ফিউরি ও অপারেশন রাইজিং লায়ন নামে দিনের আলো ফোটার আগেই ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ভয়ংকর আক্রমণ। তবু যুক্তরাষ্ট্রের মতে যুদ্ধবিরতির কৌশলে রণাঙ্গন থেকে পিছু হটেনি ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, যুদ্ধ বন্ধ এ চুক্তির ঘোষণায় মুষড়ে পড়েছেন ইসরায়েল বন্ধু মার্কিন রাজনীতিকরাও। ‘যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা ইসরায়েলের অবস্থানকে দুর্বল করবে। ইরানকে করে তুলবে আরও শক্তিশালী।’ এই অভিযোগের তীরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে।
পারমাণবিক বিরোধকে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ পারমাণবিক ইস্যুটিই প্রকট ছিল জানুয়ারিতে
ফালাফালা করছেন দেশটির সিনেটর ও রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ কট্টরপন্থীরা। সমালোচনা আরও তীব্র হয় রবিবার। যখন ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং স্বাক্ষরের অপেক্ষায় আছে। এই সমঝোতা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যেটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিনেটর লিনডসে গ্রহাম সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো চুক্তি যদি ইরানকে সামরিকভাবে সক্ষম ও রাজনৈতিকভাবে অক্ষত রাখে, তবে তা ‘ইসরায়েলের জন্য দুঃস্বপ্ন’ হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালি ইরানের সন্ত্রাসী হুমকি থেকে সুরক্ষিত করা না যায় এবং ইরান উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হানার সক্ষমতা বজায় রাখে, তবে পুরোপুরি বদলে যাবে অঞ্চলীয় ক্ষমতার ভারসাম্য। স্থায়ী কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে মেনে নিতে হবে ইরানকে।’
জয়ী হয়েছে ইরান: ইসরায়েলের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে এসেছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটন এখন একটি কঠিন কৌশলগত পরিস্থিতির মুখোমুখি। চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক মেজর জেনারেল ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান জিওরা আইল্যান্ড। বলেছেন, ‘ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছে, হয়তো কয়েক পয়েন্টের ব্যবধানে, কিন্তু এটি স্পষ্ট বিজয়। যুদ্ধের ফল এখন পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে এবং ইরানিরা যুদ্ধের ফল নিয়ে আরও বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারে।’ তিনি দাবি করেন, ‘বর্তমানে স্পষ্ট সংকটে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও বড় বিপদের মধ্যে পড়েছে ইসরায়েলি শাসন।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘পারমাণবিক বিরোধকে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন মূলত আগ্রাসন বন্ধের বিষয়েই বেশি মনোযোগ। অথচ পারমাণবিক ইস্যুটিই প্রকট ছিল জানুয়ারিতে।’






