যুক্তরাজ্যেও কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া

দ্বিতীয় দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ব্রিটেন- রয়টার্স
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং গেমিং ও লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এটি কার্যকর হলে ১৬ বছরের কম বয়সীরা এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন না। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গিয়ে নেওয়া এই পদক্ষেপ বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেছেন, ‘শিশুদের শৈশব ফিরিয়ে দিতেই এই পদক্ষেপ। স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমের পাশাপাশি যেসব গেমিং সাইটে অপরিচিত ব্যক্তিরা শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পায়, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলছিলেন, ‘পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। এতে বড় পরিবর্তন আসবে। আমাদের শিশুরা আরও নিরাপদ ও সুখী হবে। তারা আরও সময় পাবে, নিরাপত্তা পাবে। বড় হওয়ার জন্য আরও স্বাধীনতা এবং আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।’
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তারা অস্ট্রেলিয়ার মতো একই মডেল ব্যবহার করবে। যা গত ডিসেম্বরে দেশটিতে আইন হিসেবে পাস হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইউটিউব, ফেসবুক ও এক্স-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপ এবং সিগন্যালের মতো মেসেজিং সেবাগুলো এর বাইরে থাকবে।
এছাড়া, অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সীদের জন্য লাইভ-স্ট্রিমিং এবং অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো ক্ষতিকর বিষয়ের ওপর সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী প্রতিবন্ধকতা চালু করতে চায় ব্রিটেন।
স্টারমার বললেন, ‘বাস্তবে কি এমন কোনো পরিস্থিতি ভাবা যায় যেখানে আপনার সন্তানকে সম্পূর্ণ অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে মিশতে দেবেন? যার সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। নিশ্চয়ই না। তাই আমরা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের আছে। চলতি বছরের শেষের দিকে এ সংক্রান্ত নিয়মকানুন চূড়ান্ত করা হবে। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ব্রিটেন ক্রমশ কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে। বয়স যাচাইকরণ, অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনা এবং অতি সম্প্রতি মোবাইল ফোনে তোলা নগ্ন ছবি শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাগিদ বা বাধ্য করছে দেশটি।
তবে শিশুরা অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে যে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ায় স্টারমার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রমাণগুলো বিবেচনা করেছেন।
নিজ দলে নেতৃত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাওয়া স্টারমার বললেন, মানুষ এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপই প্রত্যাশা করছিল।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে দেশটি টিকটক, অ্যালফাবেটের ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের প্রবেশাধিকার ব্লক করে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপের পর থেকে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার কারণে আরও বেশ কয়েকটি দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।




