সিরিয়ার মাধ্যমে ইউরোপে তেল রপ্তানি শুরু ইরাকের

সংগৃহীত ছবি
সিরিয়ার মাধ্যমে স্থলপথে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করেছে ইরাক। এটিকে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ হরমুজ প্রণালীর প্রচলিত নৌপথকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান সোমোর মহাপরিচালক আলি নজর বুধবার জানান, কোম্পানিটি সিরিয়ার মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ হাজার ব্যারেল বাসরা মিডিয়াম অপরিশোধিত তেল ভূমধ্যসাগরে রপ্তানিতে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই তেল সিরিয়ার বানিয়াস বন্দর হয়ে ইউরোপীয় বাজারে পৌঁছাবে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, আল-তানফ সীমান্তপথ দিয়ে জ্বালানিবাহী বহর দেশে প্রবেশ শুরু করেছে, যা সিরিয়াকে আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি জানায়, তারা এসব চালান সংরক্ষণ করে পরে বানিয়াস বন্দরে পাঠাবে রপ্তানির জন্য।
কোম্পানিটির যোগাযোগ পরিচালক সাফওয়ান শেখ আহমদ জানান, প্রথম বহরে ২৯৯টি ট্যাংকার রয়েছে এবং তিনি এটিকে ‘অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে সিরিয়ার ভূমিকা পুনরুদ্ধারের পথে একটি পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
এই কার্যক্রম থেকে দামেস্কের জন্য রাজস্ব আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দীর্ঘ বছরের গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রানজিট অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।
সিরিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বৃহৎ পরিসরের জ্বালানিপ্রবাহ পরিচালনায় দেশের প্রস্তুতি তুলে ধরছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমো এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে প্রায় ছয় লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহে সম্মত হয়েছে, যা সিরিয়ার মাধ্যমে স্থলপথে পরিবহন করা হবে।

