হরমুজ প্রণালি খুলছে না, ওমানের সঙ্গে বিকল্প পথের সমঝোতা ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে সমঝোতা করেছে ইরান ও ওমান। ছবি: সংগৃহীত
ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে সমঝোতা হলেও এর অর্থ প্রণালি খুলে দেওয়া নয়। এ মন্তব্য করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তিনি বলেছেন, গত ৪০ দিন ধরে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে দুই দেশ। আলোচনার ভিত্তিতে ১১ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সাময়িক নৌপথ নির্ধারণে সম্মত হয়েছে তারা। এই পথের প্রবেশমুখ এবং বের হওয়ার পথের একটি অংশ যাবে ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে।
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গারিবাবাদি বলেন, ‘আমরা ওমানের সঙ্গে একমত হয়েছি যে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের পথ হবে আমাদের জলসীমার মধ্য দিয়ে। বের হওয়ার পথের একটি অংশও আমাদের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওমানের সঙ্গে এই সমঝোতার অর্থ ‘হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নয়’। তার ভাষ্য, এই পথ চালু করার অর্থ হলো প্রণালির দক্ষিণের সেই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া, যেটি যুক্তরাষ্ট্র ওমানের চাপের কারণে চালু করেছিল। তার দাবি, এ পদক্ষেপ যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
গারিবাবাদি জানান, প্রস্তাবিত নৌপথের মানচিত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে স্থায়ী একটি ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য আলোচনা হবে।
হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে এবং এর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও দাবি করেন গারিবাবাদি। প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে বলে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গারিবাবাদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশকে জানতে হবে, ইরানের ব্যবস্থাপনা ছাড়া হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, এখনো ‘যুদ্ধাবস্থায়’ রয়েছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক সময়ে যে নিয়মগুলো মানা হয়, তা মেনে চলা সম্ভব নয় বলে পাকিস্তান, ওমান ও কাতারকে জানিয়েছে তারা।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে ইরানের অবস্থান ‘সুস্পষ্ট’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে ইরানের।’







