হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় যুক্তরাজ্য ও মিত্ররা

ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা করবে যুক্তরাজ্য।
পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে পশ্চিমা অংশীদারদের ওপর চাপ বাড়ার মধ্যেই নেওয়া হচ্ছে এ উদ্যোগ ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বৈঠকে অংশ নেবেন ৪১টি দেশের কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই হবে প্রথম এমন বৈঠক।
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ওপর চাপ দিচ্ছেন, এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল রক্ষায় তারা কী পরিকল্পনা নিয়েছে তা সামনে আনার জন্য।
বৃহস্পতিবার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ট্রাম্পের এক বৈঠক সম্পর্কে অবগত তিনজনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেখানে এমন ধারণা দিয়েছেন যে, তিনি আলোচনা নয়, মিত্রদের কাছ থেকে যত দ্রুত সম্ভব বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান।
তবে যুক্তরাজ্যের আয়োজনে হতে যাওয়া এই নতুন বৈঠক আগের দফার তুলনায় নিম্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। গত ২ এপ্রিলের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা । এবার অংশ নেবেন পলিটিক্যাল ডিরেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
ব্রিটিশ ওই কর্মকর্তা বৈঠকের নির্দিষ্ট দিন জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেছেন, বহুজাতিক কর্মদলগুলোর বৈঠকের পর এই আলোচনা হবে, যেখানে বাস্তবসম্মত সমাধানের খসড়া তৈরি করা হবে।
ব্রিটেনের প্রত্যাশা, আলোচনায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে কথা হবে। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ও থাকতে পারে। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ও আলোচনায় আসবে।
লন্ডন বলে আসছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের টোল বসানো যাবে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বৃহস্পতিবার বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি যাতায়াতভিত্তিক ফি বা টোল আরোপে সম্মত হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে, যা অন্যত্র অন্যদের দ্বারা ব্যবহার ও অপব্যবহার করা হতে পারে।
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প নিজেই প্রণালিতে চলাচলের জন্য টোল আদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার ধারণা তুলেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে তিনি অবস্থান বদলেছেন বলে মনে হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘খবর পাওয়া যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া ট্যাংকারগুলোর কাছ থেকে ইরান ফি আদায় করছে৷ তারা যেন তা না করে, আর যদি করেই থাকে, তাহলে এখনই তা বন্ধ করা উচিত।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুক্রবার বলেছেন, আগের দিন ফোনালাপে তিনি ট্রাম্পকে মিত্র দেশগুলোর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ব্রিটেনকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা কটাক্ষ করেছেন।
স্টারমার বলেছেন, দেশগুলোর এই জোট ‘একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা এবং প্রণালি দিয়ে বাস্তবে কীভাবে জাহাজ চলাচল করানো যাবে, সেই লজিস্টিকসও খতিয়ে দেখছে।’
কূটনৈতিক এই তৎপরতা নতুন করে জোরদার হওয়ার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ৷ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

