মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের
- উপসাগরীয় দেশগুলোকে তীব্র সামরিক অভিযানের সতর্কতা ওয়াশিংটনের
- যুদ্ধ এড়াতে আবার তৎপর কাতার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসর

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজের সারি। আকাশে যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতি। আর কূটনীতির টেবিলে অমীমাংসিত পারমাণবিক বিরোধ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ আবার ঘনাচ্ছে। ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় হামলা হতে পারে সংক্ষিপ্ত। কিন্তু তেহরানের পাল্টা আঘাতে সেই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে, তার নিশ্চয়তা নেই। আট মাসের সংঘাতের ক্ষত না শুকাতেই নতুন যুদ্ধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় দেশগুলো। গত বুধবার এক প্রতিবেদনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান হতে পারে বলে কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগে দেওয়া ওই বার্তার কথা জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা। একই আশঙ্কার কথা দুই কূটনীতিকের বরাতে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
প্রস্তুতিও দৃশ্যমান। টেক্সাস থেকে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইসরায়েলে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য ইরানি হামলার মুখে থাকা কয়েকটি ঘাঁটি থেকে সরানো হয়েছে সেনা। মজুদ হচ্ছে গোলাবারুদ। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বোমারু ও যুদ্ধবিমান। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রায় ২০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহরে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী ও নৌ-সেনাদের বিশেষ দল যোগ দিতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সম্ভাব্য লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। হোয়াইট হাউজ বলেছে, তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেজন্য সব বিকল্প খোলা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এদিন ট্রাম্প বলেছেন, ‘চুক্তির মাধ্যমে অথবা অন্য পথে, কাজটি শেষ করতে হবে। আলোচনা সফল হয় কি না, দেখা যাবে।’
যুদ্ধের সূত্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর স্থাপনা ও জাহাজে পাল্টা আঘাত হানে। হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক সমঝোতা হলেও তা টেকেনি। নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ-অবরোধে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আট মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলার।
যুদ্ধ এড়াতে কাতার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসর আবার তৎপর। কাতারের নতুন প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের বিনিময়ে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা রয়েছে। তবে বুধবার রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত ধারণাগুলো ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অবশ্য জানিয়েছেন, কূটনীতিকে এখনো সুযোগ দিচ্ছে তেহরান। জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু পরিদর্শকরা সেখানে ঢুকতে না পারায় পারমাণবিক উপকরণের অবস্থাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এদিকে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্য হতে পারে তেলক্ষেত্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সংযুক্ত আরব আমিরাত তাই সংযমের আহ্বান জানিয়েছে।



