ডিজিটাল জন্ম ও মৃত্যু সনদ চালু করছে রাওয়ালপিন্ডি

বৈঠকে ই-বিজ পোর্টালের কার্যক্রমও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি বিভাগের প্রশাসন শনিবার রাওয়ালপিন্ডি, মুরি, আটক, চাকওয়াল ও ঝেলম জেলার প্রশাসনকে জন্ম, মৃত্যু এবং অন্যান্য নিবন্ধন সনদ ইস্যুর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডির কমিশনার কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ই-বিজ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যক্রম এবং ই-বিজ পোর্টালের অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় বিভাগীয় কমিশনার সালমান গনি এ নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেছেন, সিআরএমএস মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনকে নাদরার সঙ্গে সংযুক্ত করার ফলে সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা নির্ভুল ও সময়মতো সেবা পাচ্ছেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সনদ ইস্যুর সময় কমিয়ে আনার এবং সব জেলায় অভিন্ন, মানসম্মত ও কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে ডেঙ্গু নজরদারি কার্যক্রম নিয়েও ব্রিফিং দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগকে ডেঙ্গু নজরদারি কার্যক্রমের কার্যকর তদারকি এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত যাচাই নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যায়।
বৈঠকে ই-বিজ পোর্টালের কার্যক্রমও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
সালমান গনি বলেছেন, ই-বিজ পোর্টাল সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা একক প্ল্যাটফর্মে সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর উপায়ে বিভিন্ন সরকারি সেবা পাচ্ছেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এক জানালা সেবার আওতায় ই-বিজ পোর্টালের মাধ্যমে বর্তমানে ব্যবসাসংক্রান্ত প্রায় ৪০০ ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত পুরো বিভাগে মোট ১০ হাজার ৮৯৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৬৮৮টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। ৩৮৭টি আবেদন বিভিন্ন বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ১ হাজার ৩৪২টি আবেদন আবেদনকারীদের কাছে অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং বিভিন্ন আপত্তির কারণে ৪৭৭টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
পোর্টালটি চালুর ফলে নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের সরকারি দপ্তরে সরাসরি যেতে হচ্ছে না। একই সঙ্গে অনলাইনে আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বেড়েছে।
সালমান গনি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে নির্দেশ দেন, ই-বিজ পোর্টালের মাধ্যমে পাওয়া প্রতিটি আবেদন ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
তিনি বললেন, কোনো আবেদন যেন যথাযথ কারণ ছাড়া ঝুলিয়ে রাখা না হয়। প্রক্রিয়াগত বা কারিগরি কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের দ্রুত, আধুনিক এবং ব্যবহারবান্ধব সরকারি সেবা দিতে পাঞ্জাব সরকার ডিজিটাল প্রশাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি, জনগণকে উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত এবং ধারাবাহিকভাবে নিজেদের কার্যক্রমের মানোন্নয়নের নির্দেশ দেন।




