পাকিস্তানে নিজ সন্তানের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ, বাবা গ্রেপ্তার

প্রতীকী/রয়টার্স
পাকিস্তানে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভিডিও তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (এনসিসিআইএ)। এ ঘটনায় নিজের চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী সন্তানদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে এক বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে সংস্থাটি।
রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিসিআইএর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শোয়েব খান দাবি করেন, পাকিস্তানের ইতিহাসে নিজের নাবালক সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের জঘন্য অপরাধে বাবার জড়িত থাকার এটিই প্রথম ঘটনা।
তিনি বললেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি তার চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী সন্তানদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে বিক্রি করতেন। গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এসব ভিডিও কেনাবেচা হতো।’
তদন্তে ভিডিওগুলোতে প্রাণীর ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্যও পাওয়া গেছে বলে জানান শোয়েব খান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির মূল হোতা স্কারদুর বাসিন্দা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তের সময় ইসলামাবাদ, মুলতান ও দক্ষিণ পাঞ্জাব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ও প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটির অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
শোয়েব খান বললেন, ‘এ ধরনের জঘন্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’
তিনি বলেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইনস্টাগ্রামে ছয় থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করতেন। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব ভিডিও বিক্রি করা হতো।
শোয়েব খান আরও জানান, এর আগে একই ধরনের অপরাধে দুই চীনা নাগরিকেরও দণ্ড হয়েছিল।
আরেকটি ঘটনার বিবরণ দিয়ে এনসিসিআইএর অতিরিক্ত পরিচালক জানান, হয়রানির শিকার হয়ে করাচির এক কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের সহায়তায় এনসিসিআইএর একটি দল মাত্র ১৩ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদ থেকে মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে ওই ব্যক্তি কিশোরীকে নিয়মিত হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন।
সূত্র: ডন




