ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

সোমবার ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ছবি : ডন
মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে হবে এ আলোচনা। দুপক্ষকেই আতিথেয়তা দিতে নিরাপত্তাসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা এরইমধ্যে শেষ করেছে পাকিস্তান। তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিকে এ বিষয়গুলো জানাতে সোমবার আলাদা বৈঠক করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
সোমবার রাতে দুটি আলাদা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকার এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দামের সঙ্গে নাকভির বৈঠকের খবর নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয় কোনো চুক্তি ছাড়াই। এর আগে, ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই দেশ। আগামীকাল বুধবার শেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে, ইরানি দূতকে দ্বিতীয় দফার আলোচনার আয়োজন ও প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাকভি। বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলোর জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছিলেন, ইসলামাবাদে প্রতিনিধিদল পাঠাবে কি না সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশটির পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আসেনি কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত।
আরেক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকালে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে বেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাকভি। যেখানে সর্বশেষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।
আলোচনা আয়োজনের জন্য ইসলামাবাদের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বেকারকে জানান নাকভি। তার ভাষ্য, পাকিস্তান সকল বিশেষ অতিথিদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে নিশ্চিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে থাকবেন ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের আন্তরিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মার্কিন দূত।

