৫২তম দিনে সামান্য শিথিল ইরানের ইন্টারনেট ব্লকেড

প্রতীকী ছবি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে চলছে ইন্টারনেট ব্লকেড। তবে ৫২তম দিনে এসে সীমিতভাবে দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি। ইরানের কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা করছে, যারা পাবেন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। কিন্তু এই উদ্যোগই আসলে দেখিয়ে দিচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ৯ কোটিরও বেশি মানুষের বেশিরভাগই এখনো কার্যত ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন।
২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে প্রথম বোমা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় পুরো দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার। পর্যবেক্ষকদের মতে, এতে ইন্টারনেট সংযোগ যুদ্ধের আগের তুলনায় নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ২ শতাংশে।
একটি সীমিত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক চালু রাখা হয়েছে, যাতে কিছু স্থানীয় সেবা ও অ্যাপ চালু থাকে। তবু মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, আর ১ হাজার ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই ডিজিটাল অচলাবস্থায় অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে কয়েক বিলিয়ন ডলার। তবে একটি খাত জমজমাট—ইন্টারনেট সংযোগের কালোবাজার।
এই সপ্তাহে রাষ্ট্রের নির্ধারণ অনুযায়ী বাছাই করা কয়েক হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারনেট প্রো’ নামে একটি সেবার জন্য নিবন্ধন করেছে বা আমন্ত্রণ পেয়েছে এসএমএসের মাধ্যমে।
এটি এমন এক ধরনের সীমিত ও নির্ধারিত ইন্টারনেট, যেখানে হাজারো ওয়েবসাইট এবং অধিকাংশ বৈশ্বিক মেসেজিং সেবা বন্ধ থাকলেও ব্যবহার করা যায় কিছু অ্যাপ, অ্যাপ স্টোর এবং গুগলের কিছু সেবা।
রাষ্ট্র-সংযুক্ত তিনটি বড় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এই সেবা বিক্রি করছে ৫০ গিগাবাইট ডেটা প্যাকেজ আকারে। পাশাপাশি অনুমোদিত কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট অফিসে ব্যবহারের জন্য সীমিত বৈশ্বিক সংযোগের আইপি-ও সরকার দিয়ে থাকে।

