হেলিকপ্টারের মিশন সিসিটিভিতে সারবেন শিক্ষামন্ত্রী

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
সময়টা ২০০১-০৬ সাল। দেশের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ছিল নকলের উৎসব। ঠিক সেই সময় দৃশ্যপটে হাজির হতেন ‘অ্যাকশন হিরো’ খ্যাত এক প্রতিমন্ত্রী। প্রটোকল নেই, ছিল না আগামবার্তাও। হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসত একটি হেলিকপ্টার। সেই আকাশযান থেকে নেমেই নকল ধরতেন তিনি। তার নাম ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরীক্ষায় অসদুপায় ঠেকিয়ে সেই সময় হন আলোচিত, পান ‘হেলিকপ্টার মিলন’ উপাধি।
নকল ধরে সফল প্রতিমন্ত্রী ড. মিলন ২০ বছর পর ফিরেছেন মন্ত্রণালয়ে, পেয়েছেন শিক্ষার পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব। চেয়ারে বসার পর প্রথম পাবলিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। এসএসসি ও সমমানের মহারণ ঘিরে দুমাস ধরে সারা দেশ চষে বেড়িয়েছেন মন্ত্রী। কথা বলেছেন দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় থাকা কর্তা-ব্যক্তিদের সঙ্গে। নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি নিয়েছেন তাদের পরামর্শও।
নকল ধরতে এবারও কি হেলিকপ্টার মিশনে নামছেন— এমন প্রশ্নে কিছুটা হাসলেন মন্ত্রী। হাতের মোবাইল ফোনটি দেখিয়ে বললেন, ‘এটি কি হেলিকপ্টারের চেয়ে বেশি নয়! এখন মোবাইলটা তো স্যাটেলাইট। আগে হেলিকপ্টারে পাহাড়ি অঞ্চলে উঠতে গিয়ে কী যে কষ্ট হতো, এখনো মনে আছে সেটা। কিছু অঞ্চলে সরাসরি ওপরে উঠতে হতো এক হাজার ফুট। এক ভয়ংকর যাত্রা।’
তার ভাষ্য, পাহাড় ডিঙানোর সেই কঠিন সময় পরিণত হয়েছে স্যাটেলাইট যুগে। হাতের মোবাইলটাই যখন পুরো পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক, তখন কেন যেতে হবে দূর-দূরান্তে। সব পরীক্ষাকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায়, পাসওয়ার্ডও আমাদের নিয়ন্ত্রণে। তাই যখন যেটা প্রয়োজন সেটা দেখে নেব।
তখনকার দিনে নকলবাজ আর অসাধু শিক্ষকদের কাছে আতঙ্কের নাম ছিলেন ‘হেলিকপ্টার মিলন’। দুর্গম পাহাড় হোক বা প্রত্যন্ত চর, শিক্ষামন্ত্রীকে আটকানোর সাধ্য ছিল না কারও। সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল সরকারি নয়— হেলিকপ্টার অভিযানগুলো হতো ব্যক্তিগত উদ্যোগে। উড়োজাহাজ ভাড়া করে তিনি এক বোর্ড থেকে অন্য বোর্ডে দিতেন ঝটিকা সফর। তখন কেন্দ্রে ঢুকে নিজ হাতে ধরতেন নকল।
পরীক্ষার্থীদের খাতা বাতিল করার সঙ্গে দায়িত্বে থাকা পরীক্ষককে করতেন বহিষ্কার। পাসের হার কমে ৪৪ শতাংশে নামলেও শিক্ষার মানে এসেছিল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মানুষ তাকে ভালোবেসে নাম দিয়েছিল 'হেলিকপ্টার মিলন'— গর্বের সঙ্গে ব্যাখ্যা করলেন ওই সময়ে ড. মিলনের সহযাত্রীরা।
২০ বছর পর সেই মিলন এখন শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষে। প্রতিমন্ত্রী থেকে হয়েছেন পূর্ণমন্ত্রী। বেড়েছে কাজের পরিধি ও স্বাধীনতা; কিন্তু আর আকাশ থেকে নেমে নকল ধরবেন না বলে সাফ জানালেন মন্ত্রী। যদিও সংসদ ভবনের ‘হাই জাম্পে’ তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন এখনো কমেনি তার গতি। তবে পাল্টাতে চান কাজের ধরন। নকল ধরায় আধুনিক প্রযুক্তির সহযোগিতা নিতে চান তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে দেশে দেশে চরমে পৌঁছেছে জ্বালানি সংকট। বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্যভাবে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। প্রতিদিনই পাম্পে পাম্পে জ্বালানির জন্য দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। গাড়ি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারাও। এমন প্রেক্ষাপটে হেলিকপ্টারে অভিযান বেশ ব্যয়বহুল।

