আসছে আগামীর সময়
চট্টগ্রামে জমজমাট একটি দিন

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আগামীর সময় সম্পাদক
আলোচনা-আড্ডা, বিতর্ক-চাওয়া-পাওয়া এবং খাওয়া; সবমিলিয়ে কর্মব্যস্ত, উপভোগ্য ও জমজমাট একটি দিন পার করল আগামীর সময়ের টিম। ‘আগামীর সময়’ আসছে বাজারে। এটা জানান দিতেই চট্টগ্রামে এসেছিলেন সম্পাদক মোস্তফা মামুনের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের টিম। সঙ্গে যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহার।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে মন্ত্রী, মেয়র, সাংবাদিক ও নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করেন তারা। সকলেই আগামীর সময়কে শুভকামনা জানিয়ে মত দেন সৎ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে। প্রত্যেকে আশা, জনপ্রিয় তারকা ক্রীড়া সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোস্তফা মামুনের নেতৃত্বে দক্ষ ও মেধাবী সাংবাদিকদের সমাবেশ এই কাগজকে নিয়ে যাবে সাফল্যের শীর্ষে।
সকালে নগরীর স্টেডিয়াম পাড়ার একটি রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আগামীর সময় সম্পাদক। সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় মেয়র চট্টগ্রামের নানা বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন। অনুরোধ জানান সেগুলো পত্রিকার পাতায় সাহসের সঙ্গে প্রকাশের।
মেয়র আক্ষেপ করেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৈরি রাস্তা ব্যবহার করে হাজার কোটি টাকা আয় করছে বন্দর। কিন্তু তারা করপোরেশনকে পরিশোধ করে না ন্যায্য কর। করলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যেত সহজে। মেয়র আগামীর সময়’র সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করেন। ভবিষ্যতে করপোরেশন ও আগামীর সময় যৌথভাবে সামাজিক সেবামূলক কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন নতুন এই সংবাদ মাধ্যমের সাফল্য কামনা করেন। বলছিলেন, ‘প্রকৃত সত্য যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করা উচিত।’ দেশ-সমাজ যাতে উপকৃত হয় সেসব বিষয়ে আগামীর সময়কে মনোযোগ বাড়াবার পরামর্শ তার।
চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করবে আগামীর সময়। প্রতিমন্ত্রীকে জানান সম্পাদক মোস্তফা মামুন। নগরীর চট্টেশ্বরীতে প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন আগামীর সময় সম্পাদক।
বেশ প্রাণবন্ত ছিল চট্টগ্রামে কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়। সংবাদপত্রের বর্তমান সংকট, আগামীর সময়ের সম্ভাবনা,সংবাদ পরিবেশনে আধুনিক ধারণা উপস্থাপন, সম্পাদকসহ পুরো টিমের দক্ষতা বিষয়ে হয় খোলামেলা আলোচনা। সাংবাদিকরা মত দেন, অনেকদিন পর একসাথে বসার বিরল সুযোগ পেয়েছেন বিভিন্ন মত ও পথের সিনিয়র সংবাদকর্মীরা।
জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকের শীর্ষপর্যায়ে কর্মরত ৩৫ জনের বেশি সাংবাদিক এতে অংশ নেন। এরা হলেন— আমার দেশের আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, দেশ বর্তমানের প্রধান সম্পাদক ফারুক ইকবাল, প্রথম আলো চট্টগ্রামের বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, দৈনিক আজাদীর চিফ রিপোর্টার হাসান আকবর, বাংলানিউজের ডেপুটি এডিটর তপন চক্রবর্তী, দৈনিক পূর্বকোণের চিফ রিপোর্টার সাইফুল আলম, বাংলাভিশনের ব্যুরো প্রধান নাসির উদ্দিন তোতা, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম সেলিম, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের আবাসিক সম্পাদক কামাল পারভেজ, প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক মাসুদ মিলাদ, প্রথম আলোর চট্টগ্রাম অফিসের হেড অব নিউজ আশরাফ উল্লাহ রুবেল, ডেইলি স্টারের ব্যুরো চিফ দ্বৈপায়ন বড়ুয়া রনি, দৈনিক সমকালের আঞ্চলিক সম্পাদক সারোয়ার সুমন,সময় টেলিভিশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান কমল দে, দৈনিক যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান শহিদুল্লাহ শাহরিয়ার, দৈনিক আমাদের সময়ের ব্যুরো প্রধান হামিদ উল্লাহ, বণিক বার্তার ব্যুরো প্রধান রাশেদ এইচ চৌধুরী, বিডিনিউজের ব্যুরো প্রধান মিন্টু চৌধুরী, ডেইলি সানের ব্যুরো প্রধান নুরউদ্দিন আলমগীর, বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদ, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান মজুমদার নাজিমুদ্দিন, দেশ রূপান্তরের ব্যুরো প্রধান ভূঁইয়া নজরুল, দৈনিক নয়াদিগন্তের ব্যুরো প্রধান নুরুল মোস্তফা কাজী, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান আলমগীর সবুজ, আজকের পত্রিকার ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, কালবেলার ব্যুরো প্রধান সাইদুল ইসলাম, খবরের কাগজের ব্যুরো প্রধান ইফতেখারুল ইসলাম এবং আগামীর সময়ের চট্টগ্রাম টিমের বিশেষ প্রতিনিধি প্রণব বল, বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সিদ্দিকী, বিশেষ প্রতিনিধি রমেন দাশগুপ্ত ও সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এই সভায় ‘নতুন ধরন নতুন ধারণার’ পত্রিকা বাজারে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সম্পাদক মোস্তফা মামুন। বলতে থাকেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের তৎপরতায় সামনের দিনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে সংবাদপত্র শিল্প। তিনি করোনার সময় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর তথ্য তুলে ধরেন। বলছিলেন, ‘সংবাদপত্রই দলিল’— এমন ক্যাম্পেইন চালিয়ে বেশ সুফল পেয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আগামীর সময়ের নির্বাহী সম্পাদক এহসানুল হক বাবু, মার্কেটিং ডিরেক্টর আহসানুজ্জামান রিমন ও সার্কুলেশন হেড পাবেল। সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহার।
এছাড়াও সম্পাদককে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন এটিএন বাংলার চট্টগ্রাম প্রধান আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান।
এর আগে আগামীর সময়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের প্রত্যেকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এরপর ছাপা সংবাদপত্রের প্রাণ হিসেবে পরিচিত হকার সমিতি ও এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন সম্পাদক মোস্তফা মামুন। পাঠকদের কাছে আগামীর সময় পৌঁছে দিতে হকারদের সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি।
আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুহাম্মদ আইয়ুব, আল হারুন, আবুল কাসেম ও রিন্টু। বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যাত্রা শুভ হবে আগামীর সময়ের।



