শরিফুলের কৌশলেই স্মিথের বাজিমাত

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসের ২ সেকেন্ড আগে নাকি শরিফুল ইসলাম জানতে পেরেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় তার ডাক পড়েছে একাদশে। অবাক হয়ে সতীর্থ রিশাদ হোসেনের কাছে কারণ জানতে চাইলে উত্তরে শুনেছেন, এটা ছির তার ‘রিজিকে’। হয়তো রিজিকে এটাও ছিল তার দলে ঢোকাটাই হবে নিউজিল্যান্ডের জয়ের কারণ! নাথান স্মিথ তো সেটাই বললেন, শরিফুলের বোলিং দেখেই নাকি কৌশলটা রপ্ত করেছিলেন কিউই বোলাররা। তারপর বাংলাদেশকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে দিল ‘আনকোরা’ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া নিউজিল্যান্ড।
১৬ মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নেমে ভালো করেও সতীর্থদের ভুলের ভারটা বইতে হলো শরিফুলকে। বোলাররা প্রতিপক্ষকে অল্পতে আটকে রাখলেও ব্যাটসম্যানরা যখন সেই রানটাও করতে পারেন না, তখন আক্ষেপ হয় কি না- এমন প্রশ্নে শরিফুল বললেন, ‘আক্ষেপের কোনো কোনো কিছু নেই। যদি আমরা হেরে যাই, তখন আমাদেরও খারাপ লাগে, ব্যাটসম্যানদেরও খারাপ লাগে। আমরা যদি আরেকটু ভালো বোলিং করতাম, তাহলে তাদের জন্য কাজটা সহজ হতো। মনে করব যে পরের ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো করবেন, আমাদের সাপোর্ট দেবেন, আমরাও তাদের সাপোর্ট দেব, দলগতভাবে আমরা ম্যাচটা জিতব। ক্রিকেট খেলায় এমনটা হয়ই, একটা ইউনিট ভালো করে, একটা ফেল করে। এটি নিয়ে আমরা আশাবাদী যে পরের ম্যাচে ভালো করব।’
প্রচণ্ড গরমে টসে হেরে আগে ফিল্ডিং করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শরিফুল বললেন, টসটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, কারণ দুপুর রোদে কোনো দলই বোলিং করতে চাইবে না, ‘যে ওয়েদার আমার মনে হয় ওয়ানডে খেলাটা হুট করে এসে... আমি টি-টোয়েন্টি খেলে আসছি, তারপরও মানিয়ে নিয়েছি। আমার মনে হয় টসটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ, দেখা যাক পরের ম্যাচে টসে কী হয়!’
অবশ্য ম্যাচটা দিনরাতের হলেও টস যে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি শরিফুলের কোনো সতীর্থ সংবাদ সম্মেলনে বুঝিয়ে বলতেন, সে ব্যাপারেও কোনো সন্দেহ নেই। তখন গরমের পরিবর্তে প্রভাবক হিসেবে চলে আসত রাতে শিশির পড়া, বল ভিজে যাওয়া, স্পিনারদের বল ধরতে অসুবিধাসহ নানা অজুহাত।
শরিফুলের সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে যাওয়ার মিনিট দশেক পর এলেন নিউজিল্যান্ড দলের পেসার নাথান স্মিথ। প্রথম ওয়ানডেতে পরপর দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর স্টাম্প ভেঙে যে ভয়টা ধরিয়েছিলেন এই পেসার, তাতেই খোলসবন্দি ব্যাটিংয়ে ম্যাচটা হেরে যায় বাংলাদেশ।
শরিফুল বলেছিলেন টি-টোয়েন্টি থেকে এসে ওয়ানডে খেলার অনভ্যস্ততার কথা। স্মিথ এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন মিরপুরে, ঢাকায় আসার মাস-পাঁচেক আগে খেলেছিলেন জাতীয় দলে। বাংলাদেশের বিমানে ওঠার আগে মাস দু-এক খেলেছেন ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে- অর্থাৎ লাল বলে। ডানেডিন আর ওয়েলিংটনে লাল বলের ক্রিকেট খেলে ঢাকায় এসে ওয়ানডে খেলতে নেমে খারাপ করলে অনেক যৌক্তিক অজুহাত দিতে পারতেন স্মিথও। সেই সংস্কৃতিটাই যে নেই নিউজিল্যান্ড দলে, বরং শীর্ষ তারকাদের অনুপস্থিতি জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ারা নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া।
তাই তো স্মিথ ড্রেসিং রুম থেকে শরিফুলের বোলিং দেখেই সাজিয়ে নেন নিজের ছক, বুদ্ধিমত্তায় কাটিয়ে ওঠেন অভিজ্ঞতার অভাব, ‘(উইকেট সম্পর্কে ধারণা) এসেছিল প্রথম ইনিংসে খেলা ব্যাটারদের কাছ থেকে, পাশ থেকে আমরাও দেখছিলাম, শরিফুলের বলটা নিচু হয়ে নিক কেলিকে বোল্ড করল, শরিফুল যে লেন্থে বল করেছিল, আমরা বোলিংয়ের সময় সেই লেন্থটাই করতে চেয়েছি। যতটা সম্ভব চেয়েছি স্টাম্প-টু-স্টাম্প বল করে যেতে, একটু অসমান বাউন্স ছিল আর পরের দিকে দেখেছেন টিকনার কয়েকটা স্লোয়ার বল করেছে যেটা কাজে দিয়েছে।’
টসভাগ্য কতটা প্রভাব রাখবে ম্যাচে? সোমবার (১৯ এপ্রিল) যদি নিউজিল্যান্ডকে আগে ফিল্ডিং করতে হয় তাহলে কি ব্যাটিংয়ে প্রভাব পড়বে, যেটা দেখা গেছে বাংলাদেশের বেলায়- এমন প্রশ্নে স্মিথের সহজ উত্তর, ‘বাইরে আগুনের মতো গরম। ওই রোদে প্রথমে বোলিং করাটা হবে সত্যিই খুব কঠিন। তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে, সিমারদের ছোট ছোট স্পেলে বল করতে হবে। এই পরিবেশে বোলিং করা সত্যিই খুব কঠিন তবে আমরা প্রস্তুতিটা নেব সেভাবেই।’
কোনো অজুহাত নেই কিউইদের, আছে সমস্যাকে মেনে নিয়ে সমাধানের গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত কৌশল।

