দশমের সিঁড়িতে ঝরল সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
রাত পোহালেই চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। এবার ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ শিক্ষার্থী বসবে পরীক্ষায়। প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেবে তারা। যদিও নবম শ্রেণিতে নিবন্ধনের পর চূড়ান্ত পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী, যা সংখ্যায় ২৩ শতাংশের বেশি।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বলছে, নবম থেকে দশম শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় বসতে পারেনি ৪ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী। ‘ঝরে পড়া’ হিসেবেই চিহ্নিত তারা। এমন চিত্র প্রতি বছরই দেখা যায়, যার নেপথ্যে শ্রমবাজারে প্রবেশ, বিদেশ চলে যাওয়া আর বাল্যবিয়ের মতো সংকটগুলো।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ৯৩ হাজার ৫৪৭ জন। আর ২১ হাজার ৯৪৭ জন বরিশাল বোর্ডে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলছিলেন, ‘বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শিক্ষা খাতে। এখানে বিনিয়োগ করতে চায় সরকার। ঝরে পড়া ঠেকাতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে কয়েকটি খাত। এগুলো পুরোদমে শুরু হলে কমে আসবে ঝরে পড়ার হার।’
শীর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দিচ্ছে, এ বছর যারা এসএসসিতে অংশ নিচ্ছে তারা নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয় ২০২৩ সালে। করে নিবন্ধনও। দুই বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। এর মধ্যে ২০২৬ সালে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করেছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। অর্থাৎ নবম থেকে দশম শ্রেণিতে উঠে শিক্ষার মূল স্রোত থেকে হারিয়ে যায় প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী।
এবার নিয়মিত এবং অনিয়মিত মিলিয়ে পরীক্ষার্থী সাড়ে ১৮ লাখের বেশি। বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেছে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৩ জন। তাদের মধ্যে ফরম পূরণ করে ১১ লাখ ৫ হাজারের বেশি। অর্থাৎ ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষা দিচ্ছে না। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে ঝরে পড়ায় শীর্ষে ঢাকা বোর্ড; সর্বনিম্নে বরিশাল। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ৯৩ হাজার ৫৪৭ জন। আর ২১ হাজার ৯৪৭ জন বরিশাল বোর্ডে।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ঝরে পড়ার হার বেশি ছাত্রীদের। মাদ্রাসায় এ সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ এবং কারিগরিতে ৪৮ শতাংশ
অন্যদিকে ১১টি বোর্ডের মধ্যে ঝরে পড়ায় শীর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত করেছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। দশমে এসে পরীক্ষায় বসছে মাত্র ২ লাখ ৩৬ হাজার জন। অর্থাৎ ১ লাখ ৪২ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে, যা ৩৭ শতাংশের বেশি।
পরীক্ষায় নেই ২ লাখের বেশি ছাত্রী
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় সব বোর্ডে ঝরে গেছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৭৭৮ ছাত্রী। ২০২৩ সালে (সেশন ২০২৩-২৪) নিবন্ধন করেছিল ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৯ ছাত্রী। কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসছে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৫১ জন। অর্থাৎ নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের পর এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি ২ লাখের বেশি ছাত্রী।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়— মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ঝরে পড়ার হার বেশি ছাত্রীদের। মাদ্রাসায় এ সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ এবং কারিগরিতে ৪৮ শতাংশ।
মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয় বাল্যবিয়েকে। অনেক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তা বা সামাজিক নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়— এমনটাই মনে করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল হক।
নিম্নমুখী প্রবণতা
২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ পরীক্ষার্থী। ২০২৪ সালে ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন। ২০২৩ সালে ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন এবং ২০২২ সালে ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন। এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে কমছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা।

