চুক্তি অনিশ্চিত, কঠিন শর্ত দুপক্ষেই
- ইরান যুদ্ধে জড়ানো উচিত হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প
- ইসরায়েলকে বাঁচাতেই সেবার ইরানে হামলা

তেহরানে একটি ইসরায়েলবিরোধী মু্যরালের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ছবিটি শনিবার তোলা -রয়টার্স
‘খুব বোকামি হয়ে গেছে আমাদের। উচিত হয়নি ইরান যুদ্ধে যাওয়া।’ ইরান যুদ্ধের চলমান হুমকি-ধমকি আর যুদ্ধবিরতি শর্তের ঘষামাজার মধ্যেই এবার নতুন কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে। শনিবার হোয়াইট হাউজের বলরুমে বসে পুত্রবধূ লোরা ট্রাম্পকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি। চুক্তি নিয়ে খুব একটা ‘তাড়াহুড়া নেই’ বলে গা-ছাড়া জবাবও দেন ট্রাম্প। পরদিনই শোনা গেল, বহুল আলোচিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে এবার আরও কঠোর শর্তারোপ করেছেন ট্রাম্প। কানে ঢুকতেই সমগর্জনে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানও। ‘সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত নিশ্চয়তা’ না পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবে না তেহরান। দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি এ শর্তের শিকলে পড়ে কার্যত ‘কাছে এসেও আরও দূরে’ই সরে যাচ্ছে অপেক্ষার যুদ্ধবিরতি চুক্তি। রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস, অ্যাক্সিওস।
মুখ ফসকে নয়, অত্যন্ত সচেতনভাবেই ফক্স নিউজের উপস্থাপিকা লরা ট্রাম্পের সামনে এই সরল স্বীকারোক্তি দেন ট্রাম্প। বললেন, ‘আপনি ইরাকের পরিস্থিতি দেখুন। আমরা খুব খারাপ করেছি। এটি ছিল একেবারেই বোকামিপূর্ণ। আমাদের শুরুতেই সেখানে যাওয়া উচিত ছিল না। আমাদের ইরানে যাওয়াও উচিত হয়নি।’ গত বছরের জুন মাসের ইরান হামলার বিষয়ে বললেন, ‘যদি ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে এই মুহূর্তে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত তেহরানের হাতে। আর তেমনটি হলে সম্ভবত তখন আপনারা ইসরায়েলকে পেতেন না, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যকেও পেতেন না। এরপর তারা সেখান থেকে কোথায় যেত?’ ইরান প্রসঙ্গে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জানালেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দারুণ চুক্তি’ করতে যাচ্ছে। এটি ‘অনেক মানুষের জীবন বাঁচাবে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই আমরা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে পারব।’ আরও যোগ করেন, ‘এতে দীর্ঘ সময় লাগে। আমার কোনো তাড়াহুড়া নেই।’
চুক্তিতে নতুন শর্ত: যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য কাঠামোগত চুক্তির শর্ত আরও কঠোর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংশোধিত প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠিয়েছেন তেহরানে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। চুক্তির খসড়ায় ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি।
দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির কিছু অংশ নিয়ে ট্রাম্প উদ্বিগ্ন ছিলেন, বিশেষ করে যেখানে ইরানের জন্য জব্দকৃত অর্থ ছাড় করার বিষয়টি রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প দুই ঘণ্টা ধরে সিচুয়েশন রুমে তার শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান নিয়ে বৈঠক করেন। তবে বৈঠক শেষে দেওয়া হয়নি কোনো ঘোষণা।
পাল্টা শর্ত ইরানের: সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবে না তেহরান। রবিবার পার্লামেন্টের এক ভার্চুয়াল অধিবেশনের বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের মৌখিক আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সমঝোতায় যাবে না ইরান। জনগণের অধিকার রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত না হলে কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য হবে না।’ আলজাজিরা।






