পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

কিয়ার স্টারমার। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। আজ সোমবার স্টারমার এ ঘোষণা দেন। খবর বিবিসির।
স্টারমার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপে ছিলেন। পদ যায় যায় করছিল বহু দিন ধরে। তবে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে টিকে ছিলেন লেবার পার্টির এ নেতা।
কিন্তু ক্রমেই স্টারমারের সমর্থন কমে আসছিল। ধীরে ধীরে সরকারে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। চাপ হয়ে উঠেছিল আকাশ সমান। সেই চাপ সরিয়ে ছন্দে ফেরা হলো না তার। বাধ্য হলেন সরে দাঁড়াতে।
যদিও গত শুক্রবার (১৯ জুন) পর্যন্ত স্টারমার জোর বলেছিলেন, নেতৃত্ব নিয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবেন তিনি।
স্টারমার জানিয়েছেন, তার দল লেবার পার্টির নতুন দলীয় নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আজ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে মধ্য বামপন্থী লেবার পার্টি বিরাট জয় পেয়েছিল। কিন্তু একের পর এক কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন নীতি থেকে ইউটার্ন নেওয়ার কারণে তিনি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন।
ভোটারদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি স্টারমার দিয়েছিলেন, তা পূরণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, লেবার পার্টির ১০০ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ চেয়েছেন। হাউজ অব কমন্সে (ব্রিটিশ সংসদ) এই দলের মোট যতজন প্রতিনিধি আছেন, এই সংখ্যাটি তার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ।
স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জানিয়ে স্টারমার বলেছেন, তিনি লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।




