নেতানিয়াহুকে সরাতে ‘ইহুদি-আরব’ জোটের দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ

তেল আবিবের রাস্তায় বিক্ষোভরত কয়েকজন তরুণ। ছবি : রয়টার্স
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের দাবিতে দেশটির তেল আবিবে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবারের এ সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেছেন, পরিবর্তন আনার এটাই হয়তো ‘শেষ সুযোগ’। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু একজন ‘ধূর্ত খোলোয়াড়’।
ইসরায়েলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনে কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আলজাজিরার রামাল্লা প্রতিনিধি নুর ওদেহ বলেছেন, ইসরায়েলের ইহুদি দলগুলোর নেতাদের প্রতি পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া মানুষের আহ্বান শোনার চাপ বাড়ছে।
তবে সমাবেশে নেতানিয়াহুর সমর্থকেরাও পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন। তারা আরব দলগুলোকে ‘তথাকথিত সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেন।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন।
নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল পেয়েছে ১৯টি আসন। এর মধ্যে রা’আম ও তিনটি আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৪ শতাংশ বেশি।
আইজেনকটের জোট আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করলে ৬৭টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবে। তবে ইসরায়েলের অনেকের কাছে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
আলজাজিরার প্রতিনিধি নুর ওদেহ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ডানপন্থী মহলে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ব্যাপক ভোট দেওয়াকে ‘নির্বাচনী সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এমনকি একে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
আইজেনকট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণে আরব ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাদের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সূত্র : আলজাজিরা




