গির্জায় হামলার জবাবে সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলা, নিহত ৭

হামলার পর হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ছবি / সংগৃহীত
গত সপ্তাহে গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার জবাবে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান। সোমবারের এসব হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ।
হামলার পর জর্ডানের সঙ্গে প্রধান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার দেশটির কারাক প্রদেশের একটি গির্জায় বন্দুক হামলার জবাবে দক্ষিণ-পূর্ব সিরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘আস্তানা’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। গির্জায় ওই হামলায় অন্তত নয়জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, সিরিয়া সরকারের সঙ্গে ‘সমন্বয় করে’ এসব বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, হামলায় ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অনেক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং তাদের বেশ কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে’।
তবে জর্ডানের এই দাবি অস্বীকার করেছে সিরিয়া।
এক বিবৃতিতে সিরিয়া সরকার জানিয়েছে, ‘কোনো ধরনের পূর্বসমন্বয় বা অবহিত করা ছাড়াই সামরিক অভিযানটি চালানো হয়েছে।’ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করার কথাও জানিয়েছে তারা।
সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দেরা ও সুয়েইদা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকার অন্তত চারটি স্থানে হামলা হয়েছে। সেখান থেকে তিন পুরুষ, এক নারী ও তিন শিশুসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
নিহতদের পাঁচজন একই পরিবারের সদস্য। দেরা প্রদেশের আল-তাই গ্রামের একটি তাঁবুতে হামলায় এক পুরুষ, এক নারী ও তিন শিশু নিহত হন। একই পরিবারের আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
তৃতীয় হামলাটি হয় দেরার আইন আল-বাসাল এলাকার মুজাইরিবে একটি আবাসিক ভবনে। সেখানে কেউ হতাহত হননি।
চতুর্থ হামলাটি হয়েছে সুয়েইদা প্রদেশের শাহবা শহরের একটি আবাসিক ভবনে। সেখানে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।
বিমান হামলার পর নাসিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়ার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ। দুই দিকেই চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যাত্রী ও বাণিজ্যিক পণ্য চলাচলের একমাত্র সীমান্ত ক্রসিং এটি।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে পরিস্থিতির পরবর্তী প্রভাব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে মন্ত্রণালয়।
এর আগে সোমবার গির্জায় হামলায় জড়িত সন্দেহে দুই ভাই ও তাদের এক ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করে জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী। আল-জাদিদা গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জর্ডান সরকারের একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, প্রায় তিন ঘণ্টার ওই সংঘর্ষে সন্দেহভাজনরা গুরুতর আহত হয়েছেন।
গির্জায় হামলার পর কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে কারাকের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানুষের ওপর তিন বন্দুকধারী গুলি চালায়।
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ‘কঠোরতম শাস্তির’ মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছিলেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
কারাকে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। জর্ডানের প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষের মধ্যে খ্রিষ্টানের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ।
সূত্র : আলজাজিরা




