ঋণের চাপ কমানোই হবে ইসরায়েলের নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট- রয়টার্স
চলতি বছরের শেষ দিকে নতুন সরকার পেতে যাচ্ছে ইসরায়েল। তবে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়ে যাওয়া প্রতিরক্ষাখাতনির্ভর সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে তাদের। সেই সঙ্গে শিক্ষা, অবকাঠামোসহ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলোতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে বলে বুধবার জানিয়েছেন ইসরায়েল ব্যাংকের গভর্নর আমির ইয়ারোন।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকার।
ক্যালকালিস্ট পত্রিকার এক সম্মেলনে ইয়ারোন বলেছেন, আর্থিক নীতিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা বাজেট এখন মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ছিল এর অর্ধেক। ওই হামলার পরই শুরু হয় গাজা যুদ্ধ।
তিনি বললেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের সামনে একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, সরকারি ঋণ আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। বর্তমানে আমরা ঋণ বৃদ্ধির পথেই রয়েছি।’
তিনি জানান, ২০২৩ সালে ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল, যা এখন বেড়ে ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বললেন, ‘দ্বিতীয় বিষয় হলো প্রতিরক্ষা বাজেট... আর তৃতীয়টি হলো শিক্ষা ও অবকাঠামোর মতো প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ।’
ইয়ারোন আরও বলেছেন, অতি-রক্ষণশীল ইহুদিদের মতো বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে শ্রমবাজারে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির কারণে প্রতিরক্ষা ব্যয় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা থাকায় ইয়ারোন ২০২৭ সালে কর বাড়ানোর পক্ষে মত দেন, যাতে সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
তিনি বললেন, ‘বাস্তবতা হলো, ৭ অক্টোবরের আগের তুলনায় আমাদের বাজেট সম্ভবত আরও বড়ই থাকবে।’
গাজা ও ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসার পর গত সপ্তাহে ইসরায়েল ব্যাংক নীতিসুদ ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৩ শতাংশে নামিয়েছে। এটি টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত।
ইয়ারোন বলেছেন, ইসরায়েল যদি আবার যুদ্ধে না জড়ায় এবং মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার আরও কমতে পারে। তবে মজুরি ও বাড়িভাড়ার মতো খাতে মূল্যচাপ থাকায় মুদ্রানীতি সতর্ক থাকতে হবে।
ইয়ারোনের মতে, ইসরায়েলের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলেও দেশটির প্রতি বৈশ্বিক নেতিবাচক মনোভাব বাণিজ্যের ওপর অতিরিক্ত করের মতো প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকতে পারে এবং নীতিনির্ধারণের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।





