যুদ্ধবিরতি ‘লঙ্ঘন’ করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা

ফাইল ছবি
লেবাননের উপকূলীয় টায়ার নগরের নিকটবর্তী কাবইলেহ শহরে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
স্থানীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
লেবানিজ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, ইসরায়েল দেশজুড়ে নিয়মিতভাবে চিকিৎসক ও উদ্ধারকারী দলকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
এ ছাড়া বেকা উপত্যকার মাচঘারা শহর এবং খিয়াম শহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলার ঘটনা এমন সময় হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের কথাও উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান এবং লেবাননসহ তাদের মিত্ররা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
কিন্তু এ দাবি প্রত্যাখান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
নিজের বিবৃতিতে নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তবে তিনি সুস্পষ্টভাবে এও যোগ করেছেন, দুই সপ্তাহের এই চুক্তিটি লেবাননে তাদের সামরিক কার্যক্রমের আওতায় পড়ে না।
অবশ্য বিবৃতির আগে থেকেই লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল।
এমনকি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও হামলা থামায়নি তেল আবিব।
আল জাজিরার লেবানন প্রতিনিধি নিশ্চিত করেন, আমরা বেকা উপত্যকার মাশঘারা শহরে বিমান হামলা দেখেছি। খিয়াম শহরে কামানের গোলাবর্ষণ দেখেছি।
তিনি বলেছেন, আমরা টায়ার শহরে একাধিক বিমান হামলা দেখেছি, যার মধ্যে একটি ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালের কাছে চালানো হয়েছিল।
এ অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই চলছিল।
লেবাননে অব্যাহত হামলা নিয়ে নেতানিয়াহুর বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে দেখা হচ্ছে ‘সম্ভাব্য কাঁটা’ হিসেবে।
কারণ ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযানের গতি বাড়াচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি বাফার জোন তৈরি করতে মোতায়েন করছে আরও সৈন্য।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মতো এটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ হত্যা করে শীর্ষ বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে।
খামেনি হত্যার জবাব দিতে তেহরানের আঞ্চলিক সহযোগী লেবাননের হিজবুল্লাহও আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল সীমান্তে।
এর প্রতিক্রিয়ায়, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল বাহিনীসহ সাড়াশি সামরিক হামলা চালায়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় পাঁচ সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০০ লেবানিজ নিহত এবং প্রায় ৫ হাজার আহত হয়েছেন।
















