হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মানতে নারাজ আরব দেশগুলো, ‘নিরাপত্তা ফি’ দিতে সম্মত

ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের জন্য নিরাপত্তা ফি দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা এই জলপথে ইরানের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব মেনে নিতে নারাজ।
একাধিক মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।
এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, কিছু উপসাগরীয় দেশের কাছে এই ফি নগণ্য; তারা মূলত স্থিতিশীলতা চায়। অন্য আরেক কর্মকর্তার ভাষ্য, উপসাগরীয় দেশগুলো চায় না ইরানের হাতে এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ‘ভেটো’ ক্ষমতা থাকুক। তারা চায় না ইরান যখন খুশি যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখুক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ দাবি করে ২০ শতাংশ ফি আদায়ের প্রস্তাব দেন। যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের পরিশোধ করার কথা ।
পরবর্তীতে ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন করে সরাসরি ফি আদায়ের পরিবর্তে দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে বড় অংকের বিনিয়োগ করার জন্য বলেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি গতকাল এটি প্রকাশ করেছি, ভেবেছিলাম এটি ভালো ছিল। বিভিন্ন দেশের রাজা ও আমিররা আমাকে ফোন করেছিলেন... তারা আমাদের শক্তিশালী অংশীদার এবং তারা বলেছেন যে তারা এটি অন্যভাবে করবেন।’
এ বিষয়ে একজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মিত্রদের বিনিয়োগের প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্টের কাছে বেশি পছন্দসই মনে হয়েছে।’ যদিও ট্রাম্পের এ পদক্ষেপটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগের একটি বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল।
রুবিও জুন মাসে বলেছিলেন, ‘কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বা ফি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। এটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইন। সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক জলপথ এভাবেই চলে এবং আমরা এখানেও তেমনটাই প্রত্যাশা করি।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের মন্তব্যের সুযোগ নিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদম ঠিক বলেছেন। যারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে, তাদের এই সেবার জন্য মূল্য পাওয়া উচিত।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০ শতাংশ অবশ্যই অনেক বেশি। আমরা ন্যায্য টোল নিব।’
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে ফি আদায়ের চেষ্টা করলেও ওমানের বাধায় তা সফল হচ্ছে না। ক্ষুব্ধ হয়ে ইরান ওমানের জলসীমায় বিভিন্ন দেশের জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন অনুযায়ী, মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল চওড়া এই প্রণালীর উপকূলীয় দেশ হলো ওমান ও ইরান। যদি দেশ দুটি একমত হতো তবে তারা আইনি যুক্তিতে এখানে ‘সার্ভিস ফি’ বসাতে পারত, কিন্তু ওমানের জাহাজগুলোকে অবাধে চলাচলের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে তেহরান সেই আইনি সুযোগ হারিয়েছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর




