ইরানের হুঁশিয়ারি
আলোচনার নতুন তারিখ ঠিক হয়নি, হরমুজ বন্ধই থাকবে

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলছে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি। এর মধ্যেই সোমবার ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফার কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ।
তেহরান জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে কিছু বিশেষ নৌযান ছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকছে আপাতত। স্থানীয় সময় শনিবার তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় এ বার্তা স্পষ্ট করেন খাতিবজাদেহ।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময় বিষয়টি নিশ্চিত করলেন, যখন আগামী সোমবার দুই পক্ষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বলে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তালিয়া ফোরামে খাতিবজাদেহ দাবি করেন, ওয়াশিংটন তার অন্যায্য দাবিগুলোতে কোনো ছাড় না দেওয়ায় সম্ভব হচ্ছে না চুক্তি।
তিনি জানান, স্থায়ী চুক্তির জন্য সরাসরি বসার আগে একটি সমঝোতা কাঠামো তৈরিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইরান।
এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান পাল্টা জবাব দিলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে।
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন ও তেহরান। এর তিনদিনের মাথায় ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষ বসে আলোচনায়। কিন্তু ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনাতেও আসেনি কোনো সমাধান।
ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী সমধানে চলছিল কূটনীতি। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে দাবি করেন, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।
তবে ট্রাম্পের এ দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখান করেছেন খাতিবজাদেহ। শনিবার তিনি মন্তব্য করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অসম্ভব প্রস্তাব’।
ইরানি মন্ত্রী ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক অবরোধকে বর্ণনা করেছেন অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে। তার মতে, এটি ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ। ওয়াশিংটনের প্রতি দ্রুত এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান খাতিবজাদেহ।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও ইরানি বন্দরে চলমান মার্কিন অবরোধের মধ্যেই এসব মন্তব্য করেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের যুদ্ধবিরতির পর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য শর্তসাপেক্ষে হরমুজ পুনরায় খুলে দেয় তেহরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ডস কোর বা আইআরজিসির বিশেষ অনুমোদন নিয়ে চলতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে।
যদিও শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ চলতে দিচ্ছে না আইআরজিসির নৌ কমান্ড।
ইরান সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করলে বা অবরোধ অব্যাহত রাখলে প্রণালিটি আবারও পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে তারা।

