ইয়েমেনে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে হরমুজে ইরানের জাহাজে হামলা, নিহত ১

ওমান উপকূল থেকে হরমুজে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলতে দেখা যাচ্ছে। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। গতকাল রবিবার সকালে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে হেংগাম দ্বীপ ও কেশম দ্বীপের শিব দেরাজ উপকূলের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, কেশমের গভর্নর হোসেইন আমির তেইমুরি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী শত্রুর’ হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।
ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সমর্থিত সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে একটি গোলা বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটির কতটা ক্ষতি হয়েছে বা নাবিকদের অবস্থা কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হরমুজ প্রণালিতে এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ হামলার ঘটনা ঘটল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হামলার ঘটনা বাড়ছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
এর এক দিন আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, ড্রোন হামলার পর তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। সৌদি আরব ও ইরাক জানিয়েছে, হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল। দেশটিতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে।
১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। গত ছয় মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকায় এটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল।
পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।
এদিকে পাইপলাইনে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া ওঠার ছবি পাওয়া গেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ হামলার জন্য ইরান সম্ভবত দায়ী।
এর আগে শনিবার সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছিল, হুতিদের ছোড়া একটি গোলায় জাজান অঞ্চলে দুজন আহত হয়েছেন। এতে একটি মসজিদসহ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরপর এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : আলজাজিরা




