হরমুজে ৪ ট্যাংকারে আগুন, তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

ওমান উপসাগরে তেল ট্যাংকার রিতি থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনে আঘাত লেগে চারটি তেল ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর মধ্যে দুটি ট্যাংকারে ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
শুক্রবার আইআরজিসির নৌবাহিনী জানিয়েছে, চারটি ট্যাংকারই হরমুজ প্রণালিতে পৃথক ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে। তবে ইরানের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
আইআরজিসির দাবি, দিনের শেষ দিকে দুটি ট্যাংকার ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা একটি পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নৌমাইনে আঘাত করে। দুটি জাহাজেই ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল ছিল।
এর আগে দিনের শুরুতে আরও দুটি ট্যাংকার একই ধরনের ঘটনার মুখে পড়ে। এর একটিও ইরানের অনুমোদনহীন দক্ষিণের পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মাইনে আঘাত করে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে সব জাহাজ ও তেল ট্যাংকারকে আইআরজিসির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। এর আগেও অনুমতি ছাড়া প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান।
এদিকে ওমান জানিয়েছে, তাদের উপকূলের কাছে হামলার পর আগুন ধরে যাওয়া পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার থেকে ২৫ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ইরানের লাভান দ্বীপের কাছে আরেকটি জাহাজে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত করেছে। ওই জাহাজের নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।
ইউকেএমটিওর হিসাবে, অক্টোবরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে অন্তত ৩৫টি হামলা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ।
২৮ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২২টি জাহাজ বাইরে এবং ১৫৫টি জাহাজ ভেতরে প্রবেশ করেছে। যুদ্ধের আগের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি, এডেন উপসাগর ও ওমান সাগরে অন্তত ১৪৪টি হামলার খবর পেয়েছে ইউকেএমটিও।
ট্যাংকারে হামলার এসব ঘটনার মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। শুক্রবার মার্কেট বন্ধ হওয়ার সময় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়।
সূত্র : আল জাজিরা




