হরমুজ প্রণালিতে ৩ জাহাজে আইআরজিসির হামলা

হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারও (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে এ তথ্য।
ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলাটি ওমান থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটে। দ্বিতীয়টি ঘটেছে ইরানের আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। আর তৃতীয় হামলাটি ঘটেছে ইরানের উপকূল থেকে ৬ নটিক্যাল মাইল দূরে।
ইরানি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও তিনটি জাহাজে হামলার দাবি করা হয়েছে। ইউফোরিয়া, এমএসসি ফ্রান্সেসকা এবং এপামিনন্ডাস নামক তিনটি জাহাজে আইআরজিসির হামলার তথ্য দিয়েছে ফার্স নিউজ। আইন অমান্য করে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করায় জাহাজ আটকে রাখার দাবি করেছে প্রতিবেদনে।
বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, আইআরজিসির হামলার কবলে পড়া প্রথম কনটেইনার জাহাজটি গ্রিক কোম্পানির মালিকানাধীন। জাহাজটির নাম ‘এপামিনন্ডাস’। মেরিন ট্রাফিকের এআইএস তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ থেকে শনাক্তযোগ্য কোনো সংকেত আসছিল না প্রণালি পার হওয়ার সময়।
আর দ্বিতীয় জাহাজটির নাম ‘ইউফোরিয়া’। এটি পানামার পতাকাবাহী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-ভিত্তিক একটি কোম্পানির মালিকানাধীন। কেপলারের এআইএস তথ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল সকালে জাহাজটি প্রণালি পার হওয়া শুরু করে। গন্তব্য ছিল সৌদি আরবের জেদ্দা।
তৃতীয় জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী এমএসসি ফ্রান্সেসকা। প্রণালি পার হয়ে দক্ষিণে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয় এটি। ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, আইআরজিসি সংকেত পাঠিয়ে ‘নোঙর ফেলার নির্দেশ’ দেয় জাহাজটিকে।
ইউকেএমটিওর বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসির একটি ‘গান বোট’ জাহাজটির দিকে এগিয়ে আসে। রেডিওর মাধ্যমে কোনো ধরনের সতর্কতা বা সংকেত না দিয়েই তারা হামলা শুরু করে। হামলায় জাহাজটির ব্রিজের (জাহাজ চালনার কক্ষ) ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ইউকেএমটিও এবং ভ্যানগার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজের ক্যাপ্টেনকে জানানো হয়েছিল প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি আছে তাদের। তা সত্ত্বেও, আইআরজিসি গুলিবর্ষণ করে। তবে নিরাপদ ও অক্ষত আছেন ক্রুরা। জাহাজগুলোতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

