আড়ালে থাকা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পেজেশকিয়ান

ছবি: রয়টার্স
জনসমক্ষে নেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তিনি কোথায় আছেন— তা নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে জল্পনা। এর মধ্যেই নতুন করে তাকে নিয়ে সামনে এলো চমকপ্রদ দাবি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খামেনি। শুধু বৈঠকের দাবিই নয়, ভবিষ্যতে তাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, এমন ভিডিও প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রবিবার জানায়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের তৃতীয় বছরে প্রবেশের সময়, জুলাইয়ের শেষ দিকে পেজেশকিয়ান খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে সামরিক বিষয় ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ব্যবহার এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক।
তবে খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে অসংগতি দেখা গেছে। ২১ জুলাই তিনি বলেছিলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ ‘দিন দিন বাড়ছে’। কিন্তু আগস্টের শুরুতে তিনি বলেছেন, খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুব কঠিন’।
এর আগে মে মাসেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, পেজেশকিয়ান খামেনির সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তিনি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর দুজনের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম প্রকাশ্যে আসা বৈঠকের খবর।
মুজতবা খামেনি তার বাবা ও পূর্বসূরি আলি খামেনির মৃত্যুর পর মার্চে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রথম দিনেই চালানো হামলায় আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মুজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে খবর রয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগেও মুজতবা খামেনি সাধারণত জনসম্মুখে খুব একটা আসতেন না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
এ জল্পনার মধ্যেই রবিবার বাসিজের উপপ্রধান কাসেম কোরাইশি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে খামেনিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে, রাস্তায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের সময় দেখা যাচ্ছে— এমন ভিডিও ও অন্যান্য নথি প্রকাশ করা হবে।
তিনি দাবি করেন, এসব ভিডিও ‘ইরানের জনগণের শত্রু ও বিরোধীদের আবারও অপদস্থ করবে’।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির স্বাস্থ্য ও দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনা-কল্পনার জবাব দিতেই ইরান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশের ঘোষণা এসেছে।




