হরমুজ খুলেছে, জাহাজের জট কি খুলবে?

সংগৃহীত ছবি
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার চুক্তি হলেও, জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা কম করাই ভালো। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন শিপিং বিশেষজ্ঞরা।
জাহাজ কোম্পানিগুলো তাদের জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত করছে এবং প্রণালী থেকে বের হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কীভাবে চলাচল সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সামুদ্রিক প্রকাশনা লয়েডস লিস্টের প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড।
তিনি বুধবার সিএনএনকে জানান, ‘জাহাজ পরিচালনাকারীরা ইরানের কাছ থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা পায়নি এবং তারা মনে করছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও মধ্যরাত পর্যন্ত যে ব্যবস্থা ছিল, সেটি এখনো পরিবর্তন হয়নি।’
এখানে তিনি প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরানের যাচাই প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় জাহাজের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা, বীমা, অর্থায়ন ও চার্টার ইতিহাস খতিয়ে দেখা হয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়।
এ কারণে জমে থাকা জাহাজের সারি সরাতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়ের চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বৈশ্বিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের ট্রেড রিস্ক বিশ্লেষক আনা সুবাসিচ।
তার মতে, ‘এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে প্রায় এক হাজারটি জাহাজ আটকে আছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ এখনো পারস্য উপসাগরের ভেতরে অবস্থান করছে।’
তিনি আরও জানান, সংঘাত শুরুর আগে এতসংখ্যক জাহাজ প্রণালী পার হতে ৭ থেকে ৯ দিন সময় লাগত। তবে এখন যেহেতু জাহাজ চলাচল ইরানি সামরিক সমন্বয় ও অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে, তাই প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুবাসিচ বলছেন, ‘এই গতিতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে মাত্র ১৫০ থেকে ২১০টি জাহাজ পার হতে পারবে, ফলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও অধিকাংশ জাহাজের জট থেকে যাবে।’
















