রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ছে ইসরায়েলে
- ইসরায়েল যদি রক্ত-মাংসের একজন মানুষ হতো, তাহলে সম্ভবত গতকালই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হতো।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
'ইসরায়েল যদি রক্ত-মাংসের একজন মানুষ হতো, তাহলে সম্ভবত গতকালই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হতো।' ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার দৈনিক মারিভ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে এভাবেই দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আভি আশকেনাজি। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের অধীনে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং রাষ্ট্রটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে।
আশকেনাজির মতে, প্রায় ৮০ বছর ধরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, কারা বিভাগ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং পেশাদার গণমাধ্যমের ওপর ভর করে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেই ভিত্তিগুলোই দুর্বল করে দিচ্ছে বর্তমান সরকার । তার ভাষায়, নেতানিয়াহু শুধু রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাই হারাননি, হারিয়েছেন ক্ষমতার ওপর থাকা প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণও ।
নিবন্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে এই সংকটের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আল্ট্রা-অর্থডক্স ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সেনাসদস্যদের সমপর্যায়ে আনার আইন। আশকেনাজির দাবি, এ বিষয়ে সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের সতর্কবার্তা সরকার উপেক্ষা করেছে। উল্টো ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা টালি গোটলিভ সেনাপ্রধানের অপসারণ দাবি করেন। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে দলীয় রাজনীতি ও লিকুদের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী হিসাবই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজের একটি উদ্যোগেরও সমালোচনা করেছেন আশকেনাজি। ২০১৬ সালে আহত ফিলিস্তিনি আবদ আল-ফাত্তাহ আল-শরিফকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক ইসরায়েলি সেনা এলোর আজারিয়াকে ক্ষমা করে তার অপরাধের রেকর্ড মুছে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করেন কাটজ। যদিও সেনাপ্রধান, সামরিক আইন কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীর জনবল বিভাগের প্রধান এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিলেন। তার মতে, আজারিয়া নিজের দায় স্বীকার বা অনুশোচনা প্রকাশ না করা সত্ত্বেও তাকে ক্ষমা করার চেষ্টা সরকারের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভের নেয়া সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জ্বালানিবাহী বিমানকে প্রথমে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়া এবং দুই ঘণ্টা পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করাকে রাজনৈতিক প্রচারণার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন আশকেনাজি । বলেছেন , পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জ্বালানিবাহী বিমানকে প্রথমে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দিয়ে দুই ঘণ্টা পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন তিনি। আশকেনাজির মতে, এটি কোনো কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রচারণার কৌশল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আহত ইসরায়েলি সেনাদের পুনর্বাসন তহবিল নিয়ে বিরোধ এবং আল্ট্রা-অর্থডক্স সম্প্রদায়ের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়ানো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার আইনকেও তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
বলেছেন, নেসেট (ইসরাযেলের সংসদ) এবং লিকুদ পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও বাড়লে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়বে। তার এই নিবন্ধ ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের একাংশে ক্রমবর্ধমান সেই উদ্বেগের প্রতিফলন, যেখানে অভিযোগ উঠছে, ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহুর সরকার রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে।




