হামাসের ঘোষণা কেন ‘কৌশল’ বলছে ইসরায়েল?

গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ-তে অবস্থিত আল-আকসা হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন হামাসের সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা
গাজা উপত্যকার শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। প্রায় দুই দশক গাজা শাসন করেছে সংগঠনটি। গত সোমবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে গঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’র কাছে শাসনভার হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।
হামাসের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সম্পূর্ণ দায় এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপানো।
হামাসের একজন মুখপাত্র বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সমস্ত অজুহাত উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে, যারা গাজায় অবিরাম ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভিযানের পর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
তেল আবিব ইঙ্গিত দিয়েছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে— এমন অজুহাতে তারা গাজায় আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে
এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও শান্তি ফেরেনি গাজায়। বরং তথাকথিত অস্ত্রবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে শিশুসহ আরও হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েল, যা তাদের দখলদারিত্ব আরও শক্তিশালী করেছে।
এদিকে হামাসের এই পদক্ষেপ ‘কৌশল’ বা চাল হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। তেল আবিব ইঙ্গিত দিয়েছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে— এমন অজুহাতে তারা গাজায় আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের দ্বিমুখী নীতির কারণে কেবল ফিলিস্তিনিদের ওপরই চুক্তি মানার চাপ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েল প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হত্যা করে চুক্তি লঙ্ঘন করলেও তা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমা মিত্রদের অন্ধ সমর্থনের কারণে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে একের পর এক অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে, যা এক বড় কলঙ্ক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সত্যিই হামাসকে নিরস্ত্র করতে চায়, তাদের উচিত ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজা ও অন্যান্য আরব ভূখণ্ড থেকে দখলদারিত্ব অবসানের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া।
তবে তেল আবিবের আচরণে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উল্টো তারা লেবানন ও সিরিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড ধরে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতাদের উচিত ইসরায়েলের এই চাতুর্যপূর্ণ নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা। অন্যথায় এই কপটতা বজায় থাকলে গাজায় সহিংসতার আরেকটি নতুন চক্র তৈরি হবে। আবারও ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনের মুখে পড়তে হবে গাজার নিরীহ মানুষকে।






