ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানিরা নিকৃষ্ট, ওদের সঙ্গে আলোচনা নয়

ন্যাটো সম্মেলনে সংস্থাটির মহাসচিব ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এটি শেষ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ওরা নিকৃষ্ট।’
স্থানীয় সময় আজ বুধবার তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার মতে, সব শেষ। ওদের সঙ্গে কথা বলে শুধু সময় নষ্ট করা, ওরা মিথ্যুক।’
ইরানের আলোচক দল সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা সময় নষ্ট করছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তাদের সঙ্গে সময় নষ্ট করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘আমাদের আলোচকরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে দেব, কিন্তু আমি এর তেমন সুযোগ দেখছি না।’
ইরানি নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি ওদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ওরা জঘন্য। আপনি জানেন জঘন্য কাকে বলে? ওরা জঘন্য। ওরা অসুস্থ লোক। ওদের নেতৃত্ব দেয় অসুস্থ লোকেরা। আর ওরা হিংস্র, সহিংস লোক।’
তার ভাষ্য, ‘আর যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা তা ব্যবহার করত। আমার মতে, সব শেষ করে দিত।’
মার্কিন আলোচকদের নিয়ে তিনি আরও বলেছেন, আমি আমাদের আলোচকদের সাথে কথা বলব, তারা আলোচনা করতে চায়, তারা ভালো মানুষ। স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনারের আমার কাছে ফিরে আসতে হবে। আমার মতে, ইরানের সঙ্গে কথা বলাটা শুধু সময়ের অপচয়। ওরা মিথ্যুক।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের বড় লঙ্ঘনের দিকগুলোর তালিকা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাদাগিরি ও চাঁদাবাজির যুগ শেষ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানি স্পিকার তালিকা দিয়ে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকের বড় ধরনের লঙ্ঘনগুলো হলো: ১. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করা ২. তেল বিক্রির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ ৩. দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং ৪. লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রাখা।
এর আগে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টি এবং কিশম দ্বীপের কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ৭ জুলাই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণাত্মক অভিযান চালিয়েছে এবং নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার করে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে এবং ইরানি বন্দর ও জাহাজের ওপর অবৈধ নৌ-অবরোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান শত্রু রাষ্ট্রগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি




