ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীদের চুলের স্টাইল-মেকআপে ৭ বছরে খরচ ৫ কোটি ৭৯ লাখ

সংগৃহীত ছবি
২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীদের চুলের স্টাইল, মেকআপ ও সরকারি প্রতিনিধিত্বের খরচ বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা) খরচ হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া গেছে এ হিসাব।
চুল ও মেকআপের খরচের প্রায় ৯০ শতাংশই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর জন্য। ওই সময়ের বেশির ভাগ সময়ই ক্ষমতায় ছিলেন নেতানিয়াহু।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করেন আইনজীবী ইয়ারা উইঙ্কলার-শালিত। তথ্যের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠন মুভমেন্ট ফর ফ্রিডম অব ইনফরমেশনের হয়ে তিনি এই আবেদন করেন। এরপর এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
তথ্যে দেখা যায়, বছর ধরে চুল ও মেকআপের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ। ওই বছর চুল ও মেকআপে খরচ হয়েছিল প্রায় ৮৪ হাজার শেকেল (প্রায় ৩৪ লাখ টাকা)।
২০২৩ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ১১ হাজার শেকেলে (প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৫২ টাকা)।
সবচেয়ে বেশি বার্ষিক খরচ হয়েছে ২০২৫ সালে। ওই বছর সরকার চুল ও মেকআপের পেছনে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা) খরচ করে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর সময়ের খরচের হিসাবও নথিতে রয়েছে। ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নেতানিয়াহুর চুলের স্টাইল করার পেছনে প্রায় ২ হাজার ৬০০ ডলার (প্রায় ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকা) এবং মেকআপে প্রায় ১ হাজার ৫৮০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা) খরচ হয়।
শুধু ২০২৩ সালের অক্টোবরেই নেতানিয়াহুর চুলের স্টাইল করতে সরকার ২ হাজার ৪৫৭ শেকেল (প্রায় ৯৯ হাজার টাকা) খরচ করে।
বিদেশ সফরেও এই খরচ বেড়েছে। রয়্যা নিউজের তথ্য অনুযায়ী, একবারে সবচেয়ে বেশি বিল হয় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে চার দিনের সফরে। ওই সফরে চুল ও মেকআপে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা) খরচ হয়
নথিতে সরকারি প্রতিনিধিত্বের খরচ আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোশাক ও অতিথি আপ্যায়নের খরচও রয়েছে।
নেতানিয়াহুর সরকারি প্রতিনিধিত্বের খরচ ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ডলার। বেনেটের ক্ষেত্রে এই খরচ ছিল প্রায় ১৯ হাজার ডলার। আর লাপিদের ক্ষেত্রে ছিল ২ হাজার ৬০০ ডলার।
কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত নথির কিছু তথ্য বাদ দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চুলের স্টাইলিস্ট ও মেকআপ শিল্পীদের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মুভমেন্ট ফর ফ্রিডম অব ইনফরমেশনের প্রধান নির্বাহী হিদাই নেগেভ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেছেন, আদালতে আবেদন করে বাধ্য না করা পর্যন্ত সরকারি অর্থ খরচের তথ্য দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
নেগেভ বললেন, জনপরিচিত ব্যক্তিদের বুঝতে হবে, জনগণের অর্থকে ব্যক্তিগত অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এই অর্থ অবশ্যই জবাবদিহির সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।
সূত্র : এনডিটিভি




