দুই দশক ক্ষমতায় থাকা অর্তেগা বললেন, আর কখনো নির্বাচন নয়

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দানিয়েল অর্তেগা- রয়টার্স
মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়ার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল অর্তেগা। ক্ষমতায় আছেন প্রায় দুই দশক ধরে। তিনি ঘোষণা করেছেন, দেশটিতে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আগামী বছর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এমন ঘোষণার পর তার সামনে নির্বাচন সংক্রান্ত আর চ্যালেঞ্জ থাকছে না। পাশাপাশি তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা আরও সুসংহত হলো।
১৯৮০-এর দশকে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, ২০০৭ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় রয়েছেন অর্তেগা। তিনি এক ভাষণে বললেন, এই পদক্ষেপের ফলে বিরোধীদের ক্ষমতায় আসার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
‘তারা সরকার ও ক্ষমতা দখল করার জন্য যে চেষ্টা চালায়, এখানে আর সেই সুযোগ দেওয়ার মতো কোনো নির্বাচন হবে না।’ গত রবিবার সন্ধ্যায় ১৯৭৯ সালের সানদিনিস্তা বিপ্লবের স্মরণে আয়োজিত এক ভাষণে অর্তেগা এ কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য, তৎকালীন বিপ্লবে অর্তেগা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আনাস্তাসিও সোমোজা একনায়কতন্ত্রকে উৎখাত করতে সাহায্য করেছিলেন। ৮০ বছর বয়সী এই নেতার গত দুই মাসের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম প্রকাশ্যে আসা। তিনি বলেছেন, ‘যেদিনগুলোতে ইয়াঙ্কি (যুক্তরাষ্ট্র) এবং সোমোজাপন্থীদের সমর্থিত দলগুলো ক্ষমতায় ফিরে আসত, সেই দিন শেষ। আর কখনোই নয়।’
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসন অর্তেগার সরকারকে একনায়কতন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২ হাজার ৩৫০ জনের বেশি নিকারাগুয়ান কর্মকর্তা ও তাদের আত্মীয়দের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
২০২১ সালে নিকারাগুয়ার সর্বশেষ নির্বাচনটি ছিল তুমুল বিতর্কিত। কারণ অর্তেগা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও ব্যবসায়ী নেতাদের আটক করেছেন। তার সরকার ভিন্নমত প্রদর্শনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। গত বছর অর্তেগা ধারাবাহিক কিছু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা আরও পোক্ত করেন। এর মধ্যে তার স্ত্রী রোসারিও মুরিয়োকে ‘সহ-প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা এবং প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছর করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি এবং তার স্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগসহ সরকারের প্রতিটি শাখা কার্যত নিয়ন্ত্রণ করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ অর্তেগা ও মুরিয়োর সরকারের বিরুদ্ধে দেশটিকে ‘কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে’ রূপান্তর করা এবং পদ্ধতিগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। ২০১৮ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমন করেন অর্তেগা। সেই বিক্ষোভে ৩০০ জনের বেশি নিহত হয়।
বিশ্লেষক এবং নির্বাসিত বিরোধী রাজনীতিকরা বলেছেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে অর্তেগা দম্পতির দ্বৈত শাসনের প্রকৃত বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি এতে বিরোধীদের সংগঠিত হওয়ার ভয়ও প্রকাশ পেয়েছে।




