ইরান অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

পাকে পড়লে বাঘেও ঘাস খায়। ইরানে ঠিক সেই দশা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ৩৬ বছরের খামেনি সরকার ফেলে দেবে। মনমতো বসাবে নিজেদের সরকার। ভেঙে চুরমার করে দেবে ইসলামী শাসনব্যবস্থা। পশ্চিমা ধাঁচের শাসনে চলবে ইরান। গাজা, ভেনেজুয়েলার মতো নতুন ইতিহাস রচনা করবে ইরানের মাটিতে। দুর্বার সেই আগ্রাসী দম্ভ নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে সঙ্গী ইসরায়েলকে নিয়ে বাঘের গর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বড় বড় সব নৌবহর টেনে আনল ইরান সীমানায়। হালুম-হুলুম থাবাও চলল দিন সাতেক। তারপরেই পাল্টে যেতে থাকে রণাঙ্গন। দম পড়তে শুরু করে দুর্ধর্ষ নেকড়ের। শেষমেশ লেজ গুটিয়ে পিছু হটা!
আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ।
কংগ্রেসের হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শুনানিতে এ মন্তব্য করেছে রুবিও।
শুনানিতে আইনপ্রণেতারা চলমান সংঘাত ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমরা ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করার জন্য এর অভ্যন্তরে আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছি না, কারণ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন সমাপ্ত হয়েছে।’
আরও বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা আর চলমান আক্রমণাত্মক অভিযানের অংশ হবে না। শুধু আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হবে।’
ট্রাম্পাকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৫-২০৮ ভোটে বিল পাস
রুবিওর দাবি, ইরানে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে মার্কিন সামরিক অভিযান। সফলভাবে ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প ঘাঁটির একটি বড় অংশ ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে এনেছে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও ড্রোনের মজুদ।
যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসে বিল পাস: শেষ পর্যন্ত ইরান হামলা বন্ধের বিল পাস করল মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। লক্ষ্য হলো, দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা। স্থানীয় সময় বুধবার ২১৫-২০৮ ভোটে এ বিল পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চার সদস্যও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পর থেকে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধের ক্ষমতায় লাগাম টানতে এটি মার্কিন কংগ্রেসের চতুর্থ প্রচেষ্টা।
দেশপ্রেমহীন পদক্ষেপ: ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদের এ বিলকে ‘দেশপ্রেমহীন’ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, এই ভোট হয়েছে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে আমার চূড়ান্ত আলোচনার ঠিক মাঝখানে।’
তিনি লেখেন, ‘এমন দেশপ্রেমহীন কাজ কে করতে পারে? তারা জানে, আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে।’
প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের ভেটোর মুখে পড়তে পারে। তবে তিন মাস আগে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ট্রাম্পকে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সীমিত করতে চাপ দেওয়া কোনো প্রস্তাব অনুমোদন করল রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়্যার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো সংঘাতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের পর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। কয়েক সপ্তাহ আগেই শেষ হয়েছে সেই সময়সীমা। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এখন আইন ভঙ্গ করছেন ট্রাম্প।




