এক কবরেই শত শত অজানা!

বন্যার পানি নেমেছে; কিন্তু নেপালের বিপর্যয়ের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে মরদেহের স্তূপে। ছবি হাতে অপেক্ষা হাসপাতালের বাইরে স্বজনদের অপেক্ষা— যদি কোনোভাবে খোঁজ মেলে প্রিয়জনের! আর সে সময়েই চিতওয়ানের দেবঘাটে তৈরি হচ্ছে এক মর্মান্তিক ‘শেষ ঠিকানা’। শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া ২২৯টি মরদেহ গতকাল শনিবার থেকে সমাহিত করার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। বিবিসি, সিএনএন।
গত বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসের পর ভেসে আসা দেহগুলো চিতওয়ানের নারায়ণী ও ত্রিশূলি নদীর তীর থেকে উদ্ধার করা হয়। গতকাল সকাল পর্যন্ত গোটা নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬১৬-তে পৌঁছেছে। চিতওয়ানেই উদ্ধার হয়েছে ২৩৩টি মরদেহ। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র চারটির পরিচয় জানা গিয়েছে। বাকি ২২৯টি দেহ এতটাই পচে গেছে, চেহারা দেখে শনাক্ত করাও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।
প্রশাসনের সামনে তাই তৈরি হয়েছে একসঙ্গে মানবিক ও জনস্বাস্থ্যের সংকট। হাসপাতাল, মর্গ এবং অস্থায়ী দেহ সংরক্ষণকেন্দ্রগুলোয় জায়গা ফুরিয়ে এসেছে। পর্যাপ্ত হিমঘরের ব্যবস্থা না থাকায় দেহগুলোর পচন দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এভাবে মৃতদেহ পড়ে থাকলে সংক্রমণ ও রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণেই চিতওয়ানের জেলা নিরাপত্তা কমিটি গতকাল জরুরি ভিত্তিতে দেহগুলো সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে শেষ পরিচয়ের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না প্রশাসন। সমাহিত করার আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে আলাদা পরিচয় নম্বর। দেবঘাটের ভারতপুর মেট্রোপলিটন সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট জায়গায় দেহগুলো সমাহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো পরিবারের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে যাতে দেহের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।







