শান্তিচুক্তি ঘিরে অশান্ত ইরান

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ঘিরে অশান্ত হয়ে উঠেছে ইরান। ফুঁসে উঠেছে জনগণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ধির বিরোধিতা করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় শহর। চুক্তির নেতৃত্বে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পদত্যাগের স্লোগানে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে রাজপথ। মাশহাদ শহরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনেও জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরাঘচির আলোচনার কৌশলের বিরুদ্ধে গত শনিবার রাস্তায় নামেন ইরানিরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ সমঝোতা স্বাক্ষর হলে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের আগের প্রভাব হারাবে তেহরান। বিক্ষোভের অনেক ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরা নারীরা ভবনটির সামনে লাল ও কালো পতাকা নাড়তে নাড়তে ‘অসম্মানজনক অনুপ্রবেশকারী আরাঘচির মৃত্যু হোক’— বলে স্লোগান দিচ্ছেন। সঙ্গে ‘আরাঘচি, লজ্জাকর, হার মানা বন্ধ কর,’ স্লোগানে ভারী হয়ে উঠেছে ইরানের আকাশ-বাতাস।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ‘পদত্যাগ করুন আরাঘচি’, ‘পদত্যাগ করুন ঘালিবাফ’— বলে স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এ ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি সংবাদ সংস্থা এএফপি। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আরাঘচির সাক্ষাৎকার প্রকাশের পরদিনই মাঠে নামেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে তিনি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এর মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চুক্তিবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ইরান সমঝোতা তাদের দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নয়। তেহরানের হরমুজ প্রণালির ওপর থাকা শক্তি এতে বিঘ্ন হতে পারে বলেও উদ্বেগ সমালোচনাকারীদের। তাদের দাবি, চুক্তি আলোচনায় ইরান অনেক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। এর পরের ধাপে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলাদাভাবে ৬০ দিনের একটি আলোচনা শুরু হবে।
খসড়া চুক্তি শর্তানুযায়ী, এই জলপথটি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে আটকে রাখা কোটি কোটি ডলারের ইরানি সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিথিল করা হবে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও।


