অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসে ১৫ বছরের শর্ত নিয়ে বিরোধে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা

জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ
ব্রিটেনে একটি স্থায়ী ঠিকানা। অনিশ্চয়তাহীন ভবিষ্যৎ। সেই আশায় বছরের পর বছর কাজ করছেন লাখো অভিবাসী। অথচ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে এবার অপেক্ষা করতে হতে পারে ১৫ বছর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের এমন প্রস্তাব ঘিরে বিভাজন ক্রমেই গভীর হচ্ছে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায়। প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক মন্ত্রী। এবার সরাসরি সমর্থন জানানো এড়িয়ে গেলেন জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ। ফলে অভিবাসননীতি নিয়ে নতুন অস্বস্তিতে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাবানার প্রস্তাব নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হয় ফানবুলেহকে। কিন্তু ১৫ বছরের অপেক্ষার শর্তটি সমর্থন করেন কি না, তার স্পষ্ট উত্তর দেননি তিনি।
বর্তমানে ব্রিটেনে সাধারণত পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর নির্দিষ্ট শর্তে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করা যায়। প্রস্তাবিত সংস্কারে সাধারণ সময়সীমা ১০ বছর করার কথা রয়েছে। স্বল্প বেতনের নির্দিষ্ট পেশায়, বিশেষত বিদেশি পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে তা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রস্তাবটি ২০২১ সাল থেকে আসা কর্মীদের ওপরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফানবুলেহ বলেছেন, ‘আমাদের অভিবাসনব্যবস্থা সংস্কার করতেই হবে। তবে তার ভিত্তি হওয়া উচিত সহমর্মিতা ও অবদানের স্বীকৃতি।’
লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে শৈশবে ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছিলেন ফানবুলেহ। সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেছেন, অভিবাসীদের সমাজে মিশে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। দেশের প্রতি তাদের অবদানকেও সম্মান করতে হবে।
অবশ্য শাবানার প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘শাবানা মাহমুদ এবং তিনি যা করতে চাইছেন, তার প্রতি আমার শতভাগ সমর্থন রয়েছে।’ কিন্তু ১৫ বছরের শর্তে সম্মতি জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মুখে কথা বসাবেন না।’
এর আগে নিজের নির্বাচনী এলাকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবরণেও দীর্ঘ অপেক্ষার সমালোচনা করেছিলেন ফানবুলেহ। সেখানে বলা হয়েছিল, স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষা বাড়ালে সামাজিক সংহতি গড়ার প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হতে পারে। পরে লেখাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তার দপ্তরের দাবি, বক্তব্যটি যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
শুধু ফানবুলেহ নন। আবাসনমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, ব্রিটেনের অসহায় মানুষদের সেবা দিতে যারা নিজেদের জীবন বদলে এ দেশে এসেছেন, কয়েক বছর পর তাদের জন্য নিয়ম পাল্টানো অন্যায্য। যদিও মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রিসভায় বিভেদের অভিযোগ খারিজ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। রেইনারের আশা, শেষ পর্যন্ত করদাতা ও অভিবাসী উভয়ের জন্য ন্যায্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম সংস্কারের মূলনীতির পক্ষে থাকলেও পরিচর্যাকর্মীদের ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আশঙ্কা, ছাড় পেলে বহু বিদেশি কর্মী পরিচর্যা খাত ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে পারেন।
ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির শতাধিক সংসদ সদস্যও পরিকল্পনাটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। চাপের মুখে প্রস্তাব শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন শাবানা। তবে সরকারের বক্তব্য, স্থায়ী বসবাসের অধিকার স্বয়ংক্রিয় নয়, তা অর্জন করতে হবে। জনপরামর্শের ফল পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এখনও আইন হয়নি। কিন্তু বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যে মানুষগুলো বছরের পর বছর ব্রিটেনের হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র আর কর্মক্ষেত্র সচল রাখছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ আরও এক দশক অনিশ্চয়তায় রেখে কি সত্যিই সামাজিক সংহতি গড়া সম্ভব?



