যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনাম যুদ্ধের হাওয়া
- বয়স ১৮ থেকে ২৫ হলেই সামরিক প্রশিক্ষণ

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধ কেন্দ্র করে রীতিমত ভিয়েতনাম যুদ্ধের হাওয়া যুক্তরাষ্ট্রে। ফিরে আসছে ১৯৭০ সালের সেই ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়ঙ্কর দৃশ্য। বাধ্যতামূলক সেনা প্রশিক্ষণ নীতিতে ফিরছে দেশটি। দুয়ারে দুয়ারে কড়া নেড়ে নয়; বয়স ১৮ হলে কোনো নোটিশ ছাড়াই সোজা নাম চলে যাবে সেনা প্রশিক্ষণের মাঠে। প্রাথমিকভাবে ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে রাখা হয়েছে বয়স। পরবর্তী সময়ে আরও কমতে-বাড়তে পারে বয়সসীমা। আজ বৃহস্পতিবার এমন তথ্য দিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
প্রাথমিকভাবে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী সকল যোগ্য পুরুষদের সামরিক প্রশিক্ষণের ( ড্রাফট পুল) জন্য নিবন্ধনের পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের। একটি প্রস্তাবিত নিয়ম পরিবর্তনের অধীনে করা হচ্ছে এটি, যা অনুমোদিত হলে কার্যকর হবে ডিসেম্বর থেকেই, বলছে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি তুলে ধরেছে সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম, যা প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত একটি আধা-স্বাধীন সংস্থা। সম্ভাব্য সামরিক সেবার জন্য যোগ্য তরুণ আমেরিকান পুরুষদের ডাটাবেস রাখে সংস্থাটি। ইরান সংঘাতের দীর্ঘায়ন ও তীব্রতার কারণে আরও বাড়তে পারে এই প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তা।
যোগ্য বয়সের অধিকাংশ পুরুষ ইতিমধ্যেই নিবন্ধন করতে বাধ্য। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের পরিবর্তনটি ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের অংশ হিসেবে আদেশ করা হয় গত ডিসেম্বরে। এই আইন অনুসারে নিবন্ধনের দায়িত্ব স্থানান্তর হচ্ছে ব্যক্তিগত পুরুষদের থেকে সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেমে; যা সংহত হবে ফেডারেল ডেটা উৎসের সঙ্গে। সংস্থার ওয়েবসাইটে ৩০ মার্চ জমা দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, যা এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।
যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসে ছয়টি সংঘাতে যুদ্ধকালীন ড্রাফট আরোপ করেছে। আর তা স্বাধীনতা যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরিয়ান যুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে। ভিয়েতনাম সংঘাতে ড্রাফট পুলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল প্রায় ১৮ লাখ আমেরিকান। কিন্তু ১৯৭৩ সাল থেকে তা সামরিক সেবা স্বেচ্ছাসেবী। ড্রাফট কার্যকর করতে ফের কংগ্রেসের আইন প্রয়োজন।
বর্তমান ব্যবস্থায় নিবন্ধনে ব্যর্থতা অপরাধ গণ্য হয়, যার শাস্তি আড়াই লাখ ডলার জরিমানা এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। এছাড়া ঝুঁকি থাকে অনেক রাজ্যে শিক্ষাবৃত্তি ও চাকরিতে প্রবেশাধিকার হারানোর, যদিও বাস্তবে প্রায়শই মামলা করা হয় না।















