লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩১, আহত ৪০

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নিহতদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু। এ হামলাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) বলছে, একাধিক শহর ও গ্রামে ধারাবাহিক হামলায় ঘটে হতাহতের এই ঘটনা। হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি সেবা কেন্দ্রও।
এনএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, বুর্জ আল-শামালি এলাকায় নিহত হয়েছেন ১৪ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু ও তিন নারী। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ শিশু ও ছয় নারী।
এদিকে কুথারিয়াত আল-রুজ এলাকায় পৃথক হামলায় নিহত পাঁচজন এবং আহত ছয়জন, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। হাব্বুশ এলাকায় নিহত হয়েছেন চারজন, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
এছাড়াও মারাকাহ এলাকায় নিহত ছয়জন এবং আহত ছয়জন, যাদের মধ্যে শিশু একজন। সীলা এলাকায় নিহত দুইজন, আহত আরও দুইজন।
তবে হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে তারা। সংগঠনটি জানায়, দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-শারকিয়া এলাকায় একটি মার্কাভা ট্যাংকেও চালানো হয়েছে ড্রোন হামলা।
এর আগে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহর ও গ্রামে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। টুরা, দেইর কানুন আল-নাহর, বদিয়াস, বুরজ রাহহাল, মারাকেহ, আল-আব্বাসিয়া, তাইর দেব্বা সহ একাধিক এলাকার নাম উল্লেখ করে সরে যেতে বলা হয়েছে নিরাপত্তাজনিত কারণে।
লেবানন থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিট্টো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নাবাতিয়েহ শহরসহ অন্তত ২১টি শহর ও গ্রামে নতুন করে উচ্ছেদ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি করেছে চরম আতঙ্ক।
তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় চলছে স্থল অভিযান চালানোর চেষ্টাও। এতে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি হয়ে উঠছে আরও জটিল।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত হয়েছেন শত শত হিজবুল্লাহ সদস্য। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন করে উচ্ছেদ নির্দেশ ও ধারাবাহিক হামলার কারণে দক্ষিণ লেবাননে আরও গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে হাজারো পরিবার।






