‘শতবর্ষ পূর্ণ করার আগেই ইসরায়েলের পতন হতে পারে’

সংগৃহীত ছবি
গভীর ‘অভ্যন্তরীণ বিভাজন’ ও ক্রমবর্ধমান ‘আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা’র কারণে ২০৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১০০ বছর পূর্ণ করার আগেই ইসরায়েলের পতন হতে পারে বলে রবিবার সতর্ক করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ইসরায়েলি মেজর জেনারেল ইৎজহাক ব্রিক।
দৈনিক মারিভে প্রকাশিত এক মতামত প্রবন্ধে তিনি এসব মন্তব্য করেন। প্রবন্ধটির শিরোনাম ছিল ‘ইসরায়েল ধ্বংসের পথে, আর একে বাঁচানোর একটিই পথ আছে’।
ব্রিক লেখেন, ‘আমি যখন সামনে তাকাতে চেষ্টা করি, তখন নিজেকে প্রশ্ন করি—ইসরায়েল রাষ্ট্র কি ১০০ বছরে পৌঁছতে পারবে?’
১৯৪৮ সালে জায়নবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দখল করা ভূমিতে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এসব গোষ্ঠী গণহত্যা চালায় এবং লক্ষাধিক ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করে। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল অবশিষ্ট ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে এবং এখনো সেখান থেকে প্রত্যাহার ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে।
ব্রিক বলেন, দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েল এমন এক সমাজে পরিণত হয়েছে, যা ‘ভেতর থেকে ছিন্নভিন্ন’—যেখানে সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে, ডান ও বামপন্থীদের মধ্যে এবং ইহুদি ও আরবদের মধ্যে ‘গভীর ঘৃণা’ বিরাজ করছে। এই বিভাজন জীবনের সব ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ইঙ্গিত করে ব্রিক বলেন, ইসরায়েল এমন এক নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যারা ‘জনস্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক টিকে থাকাকে অগ্রাধিকার দেয়’। তিনি নেতৃত্বকে ‘স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন ও দিকনির্দেশনাহীন’ বলে বর্ণনা করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিক বলেন, দেশটি ক্রমেই এমন এক রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ‘বিতৃষ্ণা ও প্রত্যাখ্যান’ উসকে দেয়। তিনি আরো বলেন, অনেক ইসরায়েলি দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালে আগের বছরের তুলনায় ইসরায়েল থেকে অভিবাসন ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
ব্রিকের মতে, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও বিজ্ঞান—সব খাতেই ইসরায়েলের স্থিতিস্থাপকতা ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছে।
তিনি দেশকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে আনতে ‘তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বে ক্ষমতায়নের’ আহ্বান জানান।
ব্রিক লেখেন, ‘উত্তরে (লেবানন ও সিরিয়ার সঙ্গে) এবং দক্ষিণে (গাজার সঙ্গে) নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন—যে চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের সামনে রয়েছে, সেগুলোর জন্য এমন শক্তি দরকার, যা কেবল তাদের মধ্যেই আছে, যাদের সামনে এখনো বহু দশক জীবন পড়ে আছে।’
তিনি বলেন, ‘যদি তরুণ প্রজন্ম হতাশাকে দায়িত্বে এবং মেরুকরণকে বুদ্ধিবৃত্তিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে পারে, তাহলে ইসরায়েল ১০০ বছরের সীমা অতিক্রম করতে পারবে।’
গাজায় ইসরায়েলের প্রায় দুই বছরব্যাপী গণহত্যামূলক যুদ্ধ চলাকালে দেশটির কর্মকর্তারা বারবার স্বীকার করেছেন, ইসরায়েল গুরুতর রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যম সংকটের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে জনমত ও সরকারি পর্যায়ে ক্ষোভও তীব্র হয়েছে।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করে, যা প্রায় দুই বছর স্থায়ী হয়। এতে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন।
একই সময়ে ইসরায়েল বিভিন্ন পর্যায়ে লেবানন ও ইরানের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ চালায়, সিরিয়ায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালনা করে, ইয়েমেনে হামলা চালায় এবং কাতারে একটি বিমান হামলাও করে।

