ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যাচ্ছেন মমতা, থাকবেন ২৩ দলের প্রতিনিধি

ফাইল ছবি: পিটিআই
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের সমীকরণ ঠিক করতে সোমবার রাজধানী দিল্লিতে বৈঠকে বসছে ইন্ডিয়া জোট। কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এই বৈঠকে ২৩টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে কংগ্রেস।
দলটির প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদে বিরোধীদের ভূমিকা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে আলোচনার জন্যই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
তার দাবি, মতের অমিল থাকলেও বিজেপিবিরোধী শক্তিগুলির বৃহত্তর ঐক্য এখনও অটুট রয়েছে।
এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর জাতীয় স্তরে এটি তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপস্থিতি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন রাজ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নে মমতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে সংসদের আসন্ন অধিবেশনকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে বৈঠকের আগে জোটের অভ্যন্তরীণ মতভেদের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তামিলনাড়ুর দল ডিএমকে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছে না। কংগ্রেসের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান এবং তামিলনাড়ুর আঞ্চলিক সমীকরণ নিয়ে অসন্তোষের কারণেই তারা দূরত্ব বজায় রাখছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিআই(এম)। দলের পক্ষে রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস প্রতিনিধিত্ব করবেন। বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্বার্থে বিরোধী ঐক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
জোটের নেতাদের মতে, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কৃষি এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে সমন্বিত অবস্থান তৈরির লক্ষ্যেই এই বৈঠক। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হবে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, গণতন্ত্র, সংবিধান এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে সমমনোভাবাপন্ন দলগুলি একসঙ্গে রয়েছে। ফলে কিছু দলের অনুপস্থিতি জোটের ঐক্যকে দুর্বল করে না।




