কলকাতায় বিজেপির পালটা মিছিল

তেরঙ্গা হাতে নেতৃত্বে নীতীন নবীন-শুভেন্দু
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের আবহে কলকাতার রাস্তায় মিছিল করল বিজেপি। আজ সোমবার দলের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে যোগ দেন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। তার সঙ্গে মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিন নেতার কাঁধেই ছিল জাতীয় পতাকা।
২ নভেম্বর দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন নীতীন নবীন। তাকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। সেখান থেকে তারা যান কলেজ স্ট্রিটে। দুপুর থেকেই সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন বিজেপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পরে কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল শুরু হয়ে ধর্মতলার দিকে এগোয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে হায়দরাবাদেও মিছিল করেন বিজেপি নেতারা। সেখানে জাতীয় পতাকা হাতে হাঁটতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।
বিজেপির এই কর্মসূচির আগে, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছিল বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। সেখানে জনজোয়ারে ভাসে দিল্লি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের দাবিতে সরব হন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ছে, যার ফলে ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কলকাতার মিছিলে নীতীন নবীন বলেছেন, বিরোধীরা শুধু ক্ষমতা দখল করতে চায়। বিজেপির কাছে সংবিধানই সবার আগে, গণতন্ত্র রক্ষাই দলের লক্ষ্য। এসআইআরের পর তামিলনাড়ু ও কেরলে নির্বাচন হয়েছে এবং সেখানে বিরোধীরা জিতেছে—এই যুক্তি তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, তখন কেন এসআইআর নিয়ে আপত্তি ওঠেনি?
বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, বিরোধীদের অরাজকতার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই এ যাত্রা। বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিদেশি শক্তি অর্থ জোগাচ্ছে। তবে এই মিছিলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। তার বক্তব্য, বিরোধীদের আন্দোলনের আঁচ যখন বাংলায় পড়েনি, তখন রাজ্যে এই কর্মসূচি কেন?
কলকাতার পর আগামী কয়েক দিন রাজ্যের আরও কয়েকটি শহরে মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। ৩ নভেম্বর হাওড়া ও শিলিগুড়ি, ৪ নভেম্বর কৃষ্ণনগর এবং ৫ নভেম্বর দুর্গাপুরে কর্মসূচি হওয়ার কথা।



