সামনে মিজোরামেও আসবে বিজেপি সরকার, দাবি বেইচুয়ার

মিজোরামে সরকার গড়ার লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি।
পরবর্তী বিধানসভা ভোটের এখনও প্রায় দু’বছর বাকি। তার আগেই মিজোরামে সরকার গড়ার লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। ২০২৮ সালের নির্বাচনে মিজোরাম রাজ্যে বিজেপিই ‘সবচেয়ে উজ্জ্বল বিকল্প’ হয়ে উঠবে এবং দল সরকার গঠন করবে বলে দাবি করছেন মিজোরাম বিজেপির সভাপতি কে. বেইচুয়া।
শুক্রবার আইজলে দলের রাজ্য দফতরে আয়োজিত রাজনৈতিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বেইচুয়া জানান, মিজোরামে সংগঠন মজবুত করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য নেতৃত্বকে সব রকম সহযোগিতা করবে। কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা যাতে রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই কাজেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপির নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত জাতীয় স্তরের বৈঠকে মিজোরাম ইউনিটের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন বলেও জানান বেইচুয়া। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন এবং সংগঠন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তার দাবি।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসাবে প্রথম বছরের কাজের রিপোর্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রশংসা পেয়েছে বলেও দাবি করেন বেইচুয়া। তার মতে, দলের কর্মীদের ঐক্য, পরিশ্রম এবং পারস্পরিক সহযোগিতাই সংগঠনের অগ্রগতির প্রধান কারণ।
বেইচুয়ার কথায়, ‘‘২০২৮ সালে মিজোরামে বিজেপি সরকার গড়বে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমাদের পাশে থাকবে। কেন্দ্রের উন্নয়নের সুফল যাতে মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং মানুষের উপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’’
তরুণ প্রজন্মকে দলের সংগঠনে আরও বেশি করে যুক্ত করার উপরও জোর দেন তিনি। তার দাবি, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগের সন্ধানে থাকা মিজোরামের যুবসমাজের একটি অংশ বিজেপির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তরুণদের সক্রিয় রাজনীতিতে নিয়ে আসতে দল এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় রাজনীতিতে জেন-জি প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রসঙ্গও টানেন বেইচুয়া। তার দাবি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে সংগঠনে পরিবর্তনের পাশাপাশি তরুণদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর পরেই রাজ্যের শাসক জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম)-কে নিশানা করেন বিজেপি সভাপতি। তার অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে জেডপিএম সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন মিজোরামের মানুষ। কিন্তু সরকার গঠনের আগে যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিফলন এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় দেখা যায়নি।
বেইচুয়ার বক্তব্য, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতি যদি একই ভাবে চলতে থাকে, তা হলে সরকারের কাজকর্মের উপর মানুষের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’’
শুধু জেডপিএম নয়, কংগ্রেস এবং মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)-কেও আক্রমণ করেন তিনি। তার দাবি, কংগ্রেসকে মিজোরামের মানুষ ইতোমধ্যেই একাধিক বার সুযোগ দিয়েছেন। অন্য দিকে, দীর্ঘ সময় রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা এমএনএফও মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি।
বেইচুয়ার দাবি, ‘‘মিজোরামের উন্নয়নের জন্য বিজেপিই সবচেয়ে উজ্জ্বল বিকল্প।’’
কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের সঙ্গে মিজোরামের আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার যুক্তি, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়লে পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মিজোরাম বেশি সুবিধা পেতে পারে।
২০২৮-এর ভোটকে সামনে রেখে এ দিনের রাজনৈতিক অধিবেশনে সংগঠন বিস্তার, তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছনো এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচারকে বিজেপির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন বেইচুয়া। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মিজোরামে সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত শক্তিশালী করার পাশাপাশি শাসক জেডপিএমের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই এখন থেকে মাঠে নামতে চাইছে বিজেপি।







