ককরোচদের আন্দোলনের প্রভাবেই ভারতে গোপন কেন্দ্রে ‘বন্দি’ প্রশ্নপ্রণেতারা

ছবি: আগামীর সময়
ভারতে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর এ বার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করল জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ)। আর নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন এবং কেন্দ্রের উপর বাড়তে থাকা চাপের প্রভাবেই এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা নিট-ইউজি ২০২৬ পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে লকডাউন অবস্থায় রাখা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি, সম্পাদনা ও অনুবাদের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের একটি গোপন স্থানে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে, যাতে বাইরে কোনও তথ্য ফাঁস না হয়।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত প্রশ্নপ্রণেতা, মডারেটর, অনুবাদক এবং অন্যান্য কর্মীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ সব ধরনের যোগাযোগের সরঞ্জাম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারেরও অনুমতি নেই। বাইরের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু অনুমোদিত ব্যক্তিরাই ওই সুরক্ষিত কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই লকডাউন ব্যবস্থা ২১ জুন পরীক্ষার শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রস্তুতির শেষ ধাপে কোনও রকম তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। সেই বিতর্কের জেরে ২২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে অনেক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়।
এনটিএ জানিয়েছে যে, প্রশ্নপত্র তৈরির প্রতিটি ধাপ এখন আলাদা আলাদা নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন তৈরি, অনুবাদ, সম্পাদনা, ছাপানো, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া— প্রতিটি স্তরে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। এমনভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি ভাগ করা হয়েছে, যাতে কোনও এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে সম্পূর্ণ তথ্য না থাকে।
নিট-ইউজি দেশের অন্যতম বড় প্রবেশিকা পরীক্ষা। চিকিৎসাবিদ্যা ও দন্তচিকিৎসা শিক্ষার স্নাতক স্তরের আসনে ভর্তির জন্য লাখ লাখ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় অংশ নেন। তাই প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানোই এখন এনটিএর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন শিক্ষামহলের একাংশ।




