ক্ষতিগ্রস্ত ৫ লাখের বেশি
আসামে ভয়াবহ বন্যায় ৬৮ জনের মৃত্যু

ছবি: রয়টার্স
ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যটির পাঁচটি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখ ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। শিবসাগর, চরাইদেও ও যোরহাট জেলার মতো এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ এখনো শতাধিক ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
শুধু ২১ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে বা ডুবে মারা গেছেন। এ ছাড়া ভূমিধস ও ঘরবাড়ি ধসে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, ওই সময়ে নাগাল্যান্ড ও আসামের বিভিন্ন জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪৩৫ থেকে ৪৯০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নদীগুলোর পানি নজিরবিহীন দ্রুততায় বেড়ে যায়।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আসামের উপরের দিকের অঞ্চলগুলো। আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা উপনদীগুলো এ অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্রে গিয়ে মেশে। গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আটকে থাকা পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে হিমশিম খেতে হয়েছে।
শিবসাগর জেলায় বন্যার পানি কমতে থাকায় প্রতিদিনই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কাদায় ভরা ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, নষ্ট হয়ে যাওয়া গৃহস্থালির সামগ্রী এবং পানিতে তলিয়ে থাকা কৃষিজমির কারণে হাজারো পরিবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সংগ্রাম করছে। জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটি জেলার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।
বন্যাকবলিত কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও ধ্বংসস্তূপ থেকে যা উদ্ধার করা সম্ভব, তা সংগ্রহ শুরু করেছেন। তবে অনেক পরিবারেরই তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরে পানি ঢুকে খাদ্যশস্য, আসবাব, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। ত্রাণ তৎপরতা চললেও অনেক এলাকায় নিরাপদ পানি, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট বড় উদ্বেগ হয়ে রয়েছে।
বাসিন্দারা বলেছেন, বন্যায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও জীবিকা কীভাবে পুনর্গঠন করবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার অপেক্ষায় অনেক পরিবার এখনো ত্রাণসামগ্রীর ওপর নির্ভর করছে।
জেলা প্রশাসক মৃদুল যাদব জানিয়েছেন, বন্যায় প্রায় ৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনটি রাজস্ব সার্কেলের ৩০১টি রাজস্ব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নাজিরা ও শিবসাগর রাজস্ব সার্কেল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি কমতে থাকায় এখন পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যাওয়া সড়ক পরিষ্কারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে।
জেলাজুড়ে ৫০টির বেশি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র চালু রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রাণ বিতরণের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ চলছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগ্য পরিবারগুলোকে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ পারিবারিক কিট দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া প্রত্যন্ত এলাকায় প্রায় ২ হাজার আটকে পড়া পরিবারের জন্য হেলিকপ্টারে করে প্রায় ১০ হাজার কেজি খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেলা হয়েছে।
পানিবাহিত ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগ ত্রাণশিবির ও বন্যাকবলিত গ্রামগুলোতে ৩৮টি চিকিৎসা দল পাঠিয়েছে। বাসিন্দারা ধীরে ধীরে ঘরে ফিরতে শুরু করায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত রাখা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি, এনডিটিভি এবং ইন্ডিয়া টুডে




