কলকাতা পুরসভা টিকবে তো?

সংগৃহীত ছবি
কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ ও চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আগামী ১৯ জুন মাসিক অধিবেশন ডেকেছেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক টানাপোড়েন, একাধিক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগ এবং পুরসভার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশনটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা নতুন করে বেড়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল এবং একাধিক কাউন্সিলরের পদত্যাগের ঘটনায়। এর ফলে পুর প্রশাসনের স্থিতিশীলতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। একই সঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে পদত্যাগের গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বুধবার বিধানসভায় নতুন তৃণমূল গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশের পর কালীঘাট থেকে কুণাল ঘোষের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয় গুঞ্জন। তিনি বলেছেন, ‘সম্মানরক্ষার জন্য মেয়র পদ ছাড়তে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম। নেত্রীর কাছে সসম্মানে পদত্যাগের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। আর সেই ইচ্ছায় সম্মতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই দাবি খণ্ডন করে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ‘এখনও পদত্যাগ করিনি।’ যদিও পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলেও রয়েছে গুঞ্জন।
এর আগে পুরসভার একটি অধিবেশন ঘিরে তৈরি হয় নজিরবিহীন পরিস্থিতি। বহু কাউন্সিলর উপস্থিত থাকলেও অধিবেশন কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় তারা ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নির্ধারিত কক্ষের বাইরে বসেই সভার কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি গড়ায় আদালতেও।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ এক পর্যবেক্ষণে জানায়, পুর আইন অনুযায়ী নিয়মিত মাসিক বৈঠক আহ্বানের অধিকার রয়েছে চেয়ারপার্সনের। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই ১৯ জুন নতুন অধিবেশনের দিন ঘোষণা করা হয়।
ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, ‘নির্ধারিত কক্ষ বন্ধ থাকায় বিকল্প স্থানে বৈঠক করতে বাধ্য হন কাউন্সিলররা। পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক ও কাউন্সিলর সজল ঘোষের ভাষ্য, ‘পুরসভায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার জন্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই দায়ী। পরিস্থিতি নিয়ে অযথা চলছে নাটক।’
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চেয়ারপার্সন মালা রায় জানান, পুরসভার সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে আইন মেনেই এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
এই সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৭ জুন, তার দুই দিন পরই হবে পুরসভার অধিবেশন।




