মুর্শিদাবাদে জয়ের পথে হুমায়ুন
- দিয়েছিলেন ‘বাবরি’ মসজিদ গড়ার প্রতিশ্রুতি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনার শুরু থেকেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে মিলছে রাজনৈতিক ওলটপালটের ইঙ্গিত। নিজের নবগঠিত দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র হাত ধরে বড় জয়ের পথে এগোচ্ছেন জেলার দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবির। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আতাউর রহমানকে পেছনে ফেলে ১২ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন হুমায়ুন। শাসকদলের এই দুর্গে ঘাসফুল শিবিরের এমন বিপর্যয় পাল্টে দিয়েছে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণ।
হুমায়ুন কবিরের এই উত্থান এক দিনে হয়নি। বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদের আদলে বিশালকায় মসজিদ নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করে তিনি স্থানীয় সংখ্যালঘু জনমানসে এক গভীর আবেগের জায়গা তৈরি করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালে বারবার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত দলত্যাগ করে যখন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি‘ গড়েন, তখন অনেকেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু আজকের ফলের প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, মুর্শিদাবাদের মাটিতে দলীয় প্রতীকের চেয়ে হুমায়ুন কবিরের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং উন্নয়নের কারিগর ইমেজ অনেক বেশি কার্যকর।
মমতাকে ডোবাচ্ছেন ভাতিজা!
০৪ মে ২০২৬
রেজিনগরের দীর্ঘদিনের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীকে সরিয়ে তাকে পাশের কেন্দ্র বেলডাঙ্গায় পাঠানো এবং এখানে সাবেক ব্লক সভাপতি আতাউর রহমানকে প্রার্থী করা যে বড় ভুল ছিল, তা এখন স্পষ্ট। তৃণমূলের এই কেন্দ্র বদলকে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং একাংশের তৃণমূল কর্মীরাও সহজভাবে নেননি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের জিল্লু সেখ এবং বিজেপির বাপন ঘোষ ময়দানে থাকলেও লড়াই মূলত সীমাবদ্ধ থেকেছে ‘আম জনতা’ বনাম তৃণমূলের মধ্যে। ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘এসআইআর’ পদ্ধতি এবং গণহারে নাম বাদ যাওয়ার যে অভিযোগ তৃণমূল তুলেছিল, তার প্রভাবও এখানে খুব একটা ধোপে টেকেনি।
ভোটের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, রেজিনগরের প্রায় ৬৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট এবং ৭ শতাংশ তফসিলি ভোটব্যাংকের বড় অংশ গেছে হুমায়ুন কবিরের ঝুলিতে । ভোটগণনা কেন্দ্রের বাইরে এখন সবুজ আবিরের বদলে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সমর্থকদের উল্লাস চোখে পড়ার মতো।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুন কবিরের এই সম্ভাব্য জয় তৃণমূলের ‘একনায়কতন্ত্রের’ বিরুদ্ধে এক বড় প্রতিবাদ। গণনা যত এগোচ্ছে, বাড়ছে ততই ব্যবধান। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান কত দূর পৌঁছায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





