ইরানের শান্তি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব, কমবে উত্তেজনা?

ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো সেই জবাব এখন পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে আবারও হতে পারে সামরিক হামলা।
ইরানের রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম জানাচ্ছে, তাদের ১৪ দফা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের কথাও। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত না করে সরাসরি যুদ্ধ শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে দেশটি।
এই প্রস্তাব সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, ইরান গত কয়েক দশকে বিশ্বের প্রতি যে আচরণ করেছে, তার জন্য এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি। ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি জানান, প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে এখনো দেখেননি। শুধু প্রস্তাবের মূল ধারণা জানানো হয়েছে তাকে, পূর্ণ নথি হাতে পাবেন শিগগিরই।
সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে আবার হামলা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি এই সংঘাত থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে না। তার মতে, এমনভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আবার নতুন করে সংকট তৈরি না হয়।
ইরান জানিয়েছে, তাদের এই প্রস্তাব এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা পরিকল্পনার জবাবে, যেখানে বলা হয়েছিল দুই মাসের যুদ্ধবিরতির কথা। এরই মধ্যে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে হরমুজ প্রণালীতে। এই পথটি বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এর আগে মার্কিন কংগ্রেসকে দেওয়া এক চিঠিতে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় কার্যত শেষ হয়েছে সংঘাত। তবে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও তার বাহিনীর জন্য বড় ধরনের হুমকি। একই সঙ্গে ইরানের বন্দর অবরোধকে চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং এটিকে উল্লেখ করেছেন ‘বন্ধুত্বপূর্ণ অবরোধ’ হিসেবে।
আইন অনুযায়ী, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামরিক অভিযান চালালে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। ২ মার্চ ইরানের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে জানানো হয় কংগ্রেসকে। সেই হিসাবে শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়সীমাও। তবে ট্রাম্প মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির কারণে এই সময়সীমা কার্যকর নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যদিও এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে ইরান। তাদের দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটি এমন পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই এই যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। অনেক আইনপ্রণেতা মনে করছেন, যুদ্ধটি ব্যয়বহুল এবং লক্ষ্য অস্পষ্ট। সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে ধীরে ধীরে শেষ করার পক্ষে তার মত।
অন্যদিকে অভিযানের সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি। তার অভিযোগ, সরকারের আলোচনার কথা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হঠাৎ সরে যায়, তাহলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা অক্ষত থেকে যেতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি যুদ্ধের দিকেও যেতে চান না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।




