গদি কার, দিদি না মোদির

সংগৃহীত ছবি
কার হাতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ? কে বসছেন নীল বাড়ির মসনদে? তৃণমূলের দিদি নাকি বিজেপির মোদি? প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তন? গত ২৯ এপ্রিল বুথে মুখ বন্ধ হতেই ঘরে ঘরে খুলে যায় সেই আলোচনার দুয়ার। চায়ের ধোঁয়ায় উড়তে থাকে ভোটার-সমর্থকের চাপা শোরগোল। লক্ষ্মীর আঁচলেই কি উঠছে ক্ষমতার চাবি নাকি হিন্দুত্ববাদী গেরুয়ার গিঁটে বাঁধা পড়বে বাংলা?
টানা চার দিনে রীতিমতো ঘুম উড়ে গিয়েছিল রাজ্যের। পাড়া-মহল্লা, চায়ের ঠেক, ভেতর বাড়ির হেঁসেল থেকে চার রাস্তার মোড়— সবখানেই ছিল এ শোরগোল। অবশেষে কাটছে ঘোর। ‘কী হয়, কী হবে দশা’ থেকে মুক্তি পাচ্ছে বাঙালি। আজ মুখ খুলবে নির্বাচন কমিশন। জানিয়ে দেবে, কার মাথায় উঠছে পশ্চিমবঙ্গের তাজ! তার আগে অবশ্য গণনায় বসবে কমিশন। সকাল থেকেই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত সেই ভোট গণনা।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। প্রথমে গোনা হবে পোস্টাল ব্যালট। তারপর খোলা হবে ইভিএম। ২০২১ সালে রাজ্য জুড়ে (জেলায় জেলায়) ১০৮টি কেন্দ্রে গণনা করেছিল নির্বাচন কমিশন। এবার প্রথমেই তা ৮৭-তে আনে নামিয়ে। পরে কমায় আরও ১০টি কেন্দ্র। কলকাতায় নির্বাচনী কেন্দ্র রয়েছে ১১টি। পাঁচটি কেন্দ্রে হবে সেগুলোর গণনা। ভোট শেষ হওয়ার পর প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই ‘সিল’ করা হয়েছে ইভিএমগুলো। রাখা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রং রুমে। যক্ষের ধনের মতো চার দিন ধরে তা পাহারা দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নেতাকর্মীরা। পালা করে, একেক দলে। সতর্ক পাহারায় আছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
গণনা দিনের করণীয় নিয়ে কর্মীদের জরুরি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে দুদলই। গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, একটি ভোটও চুরি হতে দেওয়া যাবে না। সেই নজর দুপক্ষেই। গণনাকেন্দ্রে টেনে দেওয়া সীমারেখার বাইরে থাকতে বলা হয়েছে তৃণমূলের পাঁচ হাজার দলীয় কর্মীকে। সকাল থেকেই যেন পার্টি অফিসগুলো গমগম করে— সেই তোড়জোড় দুই শিবিরেই।
গণনাকেন্দ্রে থাকবে ১৬৩ ধারা
নির্বিঘ্নে ভোট হওয়ার পর গণনা পর্বেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো খামতি রাখতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে আরও একাধিক নিয়মকানুন।
কমিশনের নির্দেশ
১. গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে গণনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষেধ। গণনাকেন্দ্রে ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪ ধারা) জারি থাকবে।
২. সকাল ৮টার সময়ে গণনা শুরু হবে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট কাউন্ট করা হবে। এরপর ইভিএমের প্রাপ্ত ভোটগণনা শুরু হবে। যদিও কোথাও পোস্টাল ব্যালট না থাকে। সেখানে ইভিএমে প্রাপ্ত ভোটগণনা শুরু হবে।
৩. গণনাকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার ECI.NET-এর মাধ্যমে গণনাকর্মী, প্রার্থী এবং তাদের এজেন্টদের জন্য জারি করা QR কোডভিত্তিক ফটো আইডির ওপর ভিত্তি করে হবে।
৪. গণনা পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
৫. পুলিশ পর্যবেক্ষকরা তাদের জন্য নির্ধারিত বিধানসভা (এসি) গণনাকেন্দ্রগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করবেন এবং নিশ্চিত করবেন, গণনা কেন্দ্রগুলোর চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিশনের নির্দেশাবলি অনুযায়ী রয়েছে।
৬. পুলিশ পর্যবেক্ষকরা কোনো অবস্থাতেই কাউন্টিংয়ের দিনে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করবেন না।



