খড়্গকে নিশানা নীতিনের
কুরুচিকর মন্তব্য কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয়
- মোদীর প্রয়াত পিতাকে নিয়ে মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ, নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন
রাজনৈতিক বিরোধিতা আর ব্যক্তিগত অপমান এক নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করে কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দিচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের মন্তব্যের প্রতিবাদে এ ভাবেই সরব হলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তার অভিযোগ, যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক লড়াইয়ের বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণকেই হাতিয়ার করছে কংগ্রেস। খড়্গের মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সোমবার দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি।
নীতিনের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নীতি, সিদ্ধান্ত এবং সরকারের কাজকর্মের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধীদের রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনার নামে প্রধানমন্ত্রী বা তার প্রয়াত পিতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। গণতন্ত্রে মতের বিরোধিতা থাকবে, রাজনৈতিক সংঘাতও থাকবে। কিন্তু তার মধ্যেও ভাষার শালীনতা এবং সাংবিধানিক পদের মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি সভাপতি।
তার কথায়, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়া উচিত। তার বদলে যদি ব্যক্তিগত আক্রমণই রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসে, তা হলে জনস্বার্থের প্রশ্নগুলি আড়ালে চলে যায়। কংগ্রেসকে নিশানা করে নীতিনের বক্তব্য, রাজনৈতিক লড়াই হোক যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে, কুরুচিকর ভাষায় নয়।
এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই সোমবার দেশ জুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে বিজেপি। দিল্লিতে সেনা ভবন সার্কেলের কাছে এবং রাজাজি মার্গে কংগ্রেস সভাপতির বাসভবনের কাছাকাছি বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। দিল্লি বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষ মলহোত্র-সহ দলের একাধিক নেতা তাতে যোগ দেন।
বিহারের পটনায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি সঞ্জয় সারাওগির নেতৃত্বে ‘জন আক্রোশ মার্চ’ বের করা হয়। সেখানে খড়্গের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর কুশপুতুল পোড়ানো হয়। বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদও এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান। লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।
বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ধর্নায় বসেন বিজেপি নেতারা। সেখানে বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েক জন কর্মীকে আটক করে পুলিশ। জম্মু ও কাশ্মীরেও বিজেপির যুব সংগঠন প্রতিবাদ জানায়। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও নিউ টাউনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ খড়্গের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। এ ছাড়া হায়দরাবাদ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কেরল, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান ও ছত্তীসগঢ়েও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজেপি।
বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রয়াত পিতাকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য খড়্গেকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনপরিসরে ভাষার সংযম বজায় রাখা জরুরি,এই যুক্তিতেই দেশ জুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে গেরুয়া শিবির।



