গরুর মাংস ও শুভেন্দুকে নিয়ে ভিডিও, ভারতে গ্রেপ্তার নারী

সংগৃহীত ছবি
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরগাঁওয়ে জ্যোৎস্না বিবি নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করেছিলেন, যেখানে গরুর মাংস এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম উল্লেখ ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা এবং গুরগাঁওয়ের চক্করপুর এলাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দিনেশ যাদবের অভিযোগের পর একটি এফআইআর করা হয় সেক্টর ২৯ থানায়। পুলিশ জানায়, ৩০ মে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে হাজির করার পর বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ২ জুন তার জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত রয়েছে ৮ জুন।
পুলিশের দাবি, ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এমন ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হচ্ছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে যখন গরু জবাইসংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, এ ধরনের গ্রেপ্তার নাগরিক স্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চলছে তদন্ত।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে অতিরিক্ত কঠোরতা হিসেবে দেখছেন। সমাজসেবী নুসরাত ইসলাম বলেছেন, ‘এ ধরনের গ্রেপ্তার অতিরিক্ত কঠোরতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরি করছে। শুধু একটি ভিডিওর ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা উদ্বেগজনক।’
এ ছাড়াও মানবাধিকার কর্মী অরবিন্দ ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘পুরো ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত এবং আইনের প্রয়োগ যেন নিরপেক্ষভাবে হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়।’
প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি বিচারাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




